মারাঠি অস্মিতার অপমানে অগ্নিগর্ভ মহারাষ্ট্র! পালঘরে গুজরাটি বিজ্ঞপ্তিতে কেন ফুঁসছেন উদ্ধব-কংগ্রেস?

মহারাষ্ট্রের পালঘরে জেলা প্রশাসনের একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক ভাষাগত সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। সিপিআই (এম)-এর একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হাইওয়েতে ট্রাফিক বিধিনিষেধ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি গুজরাটি ভাষায় প্রকাশ করায় ফুঁসে উঠেছে বিরোধী দলগুলি। শিবসেনা (ইউবিটি) এবং কংগ্রেস সরাসরি একে ‘মারাঠি অস্মিতার’ ওপর আঘাত বলে তকমা দিয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাইওয়েতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন ছিল। যেহেতু গুজরাট থেকে প্রচুর সংখ্যক গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে, তাই মূলত গুজরাটি চালকদের সুবিধার জন্য সীমান্তের গ্রামগুলোতে বিজ্ঞপ্তির গুজরাটি অনুবাদ লাগানো হয়েছিল। জেলা কালেক্টর স্পষ্ট করেছেন যে মূল নির্দেশিকা মারাঠি ভাষাতেই ছিল, অনুবাদটি কেবল তথ্যের খাতিরে করা হয়েছে।

তবে বিরোধীরা এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত তীব্র আক্রমণ করে প্রশ্ন তুলেছেন, “পালঘর কি প্রতিবেশী রাজ্যের অংশ হয়ে গিয়েছে?” তিনি অভিযোগ করেছেন যে বুলেট ট্রেন এবং বধবন বন্দরের মতো প্রকল্পের আড়ালে মহারাষ্ট্রের ওপর গুজরাটি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার এক গভীর চক্রান্ত চলছে। কংগ্রেস নেতা বিজয় ওদেত্তিয়ার এবং নানা পাটোলে দাবি করেছেন, এটি মুম্বাইকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার এবং মারাঠি সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার একটি পরিকল্পিত শুরু।

সীমান্তবর্তী এলাকায় তথ্যের আদান-প্রদানের জন্য একাধিক ভাষার ব্যবহার সাধারণ ঘটনা হলেও, মহারাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ‘গুজরাটি বিজ্ঞপ্তি’ এক নতুন বারুদ যোগ করেছে। একনাথ শিন্ডে সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া— সর্বত্রই এখন প্রতিবাদের ঝড়।