জমির মিউটেশন নিয়ে আর বিএলআরও অফিসে চক্কর নয়! বড় ঘোষণা নবান্নর, এবার এক ক্লিকেই সমাধান

জমি কেনার পর মিউটেশন বা পরচা হাতে পাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানির দিন শেষ হতে চলেছে। বিএলআরও (BLRO) বা জেলাশাসকের দপ্তরে বারংবার চক্কর কাটার চিরাচরিত প্রথা বন্ধ করতে এবার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। জমি সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ ও আপিল প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে ‘বাংলার ভূমি’ পোর্টালে যুক্ত করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘আপিল মডিউল’।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নতুন এই অনলাইন ব্যবস্থায় মিউটেশন, পাট্টা এবং বর্গা সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যা সরাসরি অনলাইনে দাখিল করা যাবে। জমি কেনার পর সরকারি নথিতে নিজের নাম নথিভুক্ত করা বা মিউটেশন করা একটি অপরিহার্য ধাপ। কিন্তু এই প্রক্রিয়া ঘিরেই প্রতি বছর হাজার হাজার অভিযোগ জমা পড়ে। এতদিন এই অভিযোগ বা বিএলআরও-র সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে মানুষকে সশরীরে সরকারি দপ্তরে হাজিরা দিতে হত। এবার থেকে একটি নির্দিষ্ট লিঙ্কে ক্লিক করেই সেই আপিল জানানো যাবে।

এই নতুন মডিউলের মাধ্যমে শুধু মিউটেশন নয়, বর্গাদারের নাম বাদ পড়া, ফসলের ভাগ নিয়ে বিবাদ কিংবা জমির অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগও জানানো যাবে। শুনানির পর রেভিনিউ অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ডিস্ট্রিক্ট ল্যান্ড অফিসারের কাছে যে আপিল করা হয়, তাও এখন থেকে হবে সম্পূর্ণ অনলাইন।

রাজ্যে বছরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার জমি সংক্রান্ত আপিল জমা পড়ে। এই বিপুল পরিমাণ মামলার নিষ্পত্তি করতে ‘অনলাইন ট্র্যাকিং’ ব্যবস্থা চালু করছে প্রশাসন। এর ফলে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই দেখতে পাবেন তাঁদের মামলার কাজ কতদূর এগোল। নবান্নর আশা, এই ব্যবস্থার ফলে সরকারি কাজে ‘লাল ফিতের ফাঁস’ আলগা হবে এবং দুর্নীতি ও দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।