নিপা আতঙ্কে বড় স্বস্তি! মধ্যমগ্রামের বাদুড় পরীক্ষায় মিলল স্বস্তির ইঙ্গিত, কী জানাচ্ছে রিপোর্ট?

রাজ্যে নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই অবশেষে স্বস্তির খবর শোনাল স্বাস্থ্যদপ্তর। দুই নার্সের সংক্রমণের উৎস খুঁজতে মধ্যমগ্রাম থেকে যে বাদুড়গুলি ধরা হয়েছিল, তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। পুণে’র ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি (NIV) এবং বন মন্ত্রকের চালানো পরীক্ষায় ৯টি বাদুড়ের আরটিপিসিআর (RT-PCR) রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে।
বাদুড় সমীক্ষায় কী তথ্য উঠে এল? বিশেষজ্ঞরা মধ্যমগ্রামের কুবেরপুর এলাকা থেকে ন’টি বাদুড় সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের লালা ও শারীরিক নমুনা পরীক্ষায় ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলেনি। তবে একটি বাদুড়ের রক্তে অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। এর অর্থ হলো, বাদুড়টি অতীতে কোনো এক সময় ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছিল, কিন্তু বর্তমানে সে সংক্রমণ ছড়াতে অক্ষম। সংক্রমণের আসল উৎস নিশ্চিত করতে বন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের যৌথ সমীক্ষা এখনও জারি রয়েছে।
আক্রান্তদের বর্তমান অবস্থা: বারাসতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরুণ নার্সের শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পরবর্তী আরটিপিসিআর টেস্ট নেগেটিভ এলেই তাঁকে ছুটি দেওয়া হতে পারে। তবে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে থাকা অন্য আক্রান্ত নার্সের অবস্থা এখনও কিছুটা উদ্বেগজনক। আশার কথা হলো, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা অন্যান্য ব্যক্তিদের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে, যা গণ-সংক্রমণের আশঙ্কা কমিয়ে দিয়েছে।
রাজ্যের আগাম প্রস্তুতি: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। জাতীয় স্তরের আদলে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর এবার গঠন করছে ‘ওয়ান হেলথ কমিটি’। সোমবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের এক সেমিনারে ভাইরোলজিস্ট সিদ্ধার্থ জোয়ারদার জানান, এটি অতিমারী প্রতিরোধের আগাম প্রস্তুতির ‘অ্যাসিড টেস্ট’। নিপা আক্রান্তদের সঠিক চিকিৎসা এবং নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োগ নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ গাইডলাইন।