সাফল্যের শিখরে উঠে কেন ‘ভিক্টিম কার্ড’? এ আর রহমানের ‘সাম্প্রদায়িক’ মন্তব্যে তোলপাড় দেশ!

‘স্লামডগ মিলিওনেয়ার’-এর সুরে বিশ্বজয় করা এ আর রহমান এখন খবরের শিরোনামে, তবে সঙ্গীতের জন্য নয়, বরং তার একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক মন্তব্যের জন্য। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন যে, সম্ভবত ‘সাম্প্রদায়িকতার’ কারণে গত আট বছর ধরে বলিউডে তিনি আশানুরূপ কাজ পাচ্ছেন না। ভারতের অন্যতম ধনী ও সফল এই সঙ্গীতশিল্পীর মুখে এমন কথা শুনে স্তম্ভিত গোটা দেশ। প্রশ্ন উঠছে, সাফল্যের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেও কেন বারবার এই ধর্মীয় তাস খেলা?
সাফল্যের কি ধর্ম হয়? বিখ্যাত সাংবাদিক শম্ভুনাথ শুক্লার মতে, এ আর রহমান ভুলে গেছেন যে তার উত্থান এবং জনপ্রিয়তা এই দেশ ও এই ইন্ডাস্ট্রির হাত ধরেই। অমিতাভ বচ্চন থেকে শাহরুখ খান—বয়সের সাথে সাথে কাজের গতি কমলেও কেউ কখনও ধর্মীয় পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেননি। রহমানের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, এনডিএ সরকারের আমলেই তিনি ২০০২, ২০০৩, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তবে কি আজ কাজ কম পাওয়াটা স্রেফ বাজারের চাহিদা না কি স্রেফ ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলার কৌশল?
বলিউডে মুসলিম আধিপত্য ও বাস্তবতা: বলিউডের ইতিহাস বলছে, এখানে মেধা ও প্রতিভাই শেষ কথা। ইউসুফ খান (দিলীপ কুমার) থেকে শুরু করে আজকের তিন খান (শাহরুখ, সালমান, আমির)—সবাই দশকের পর দশক রাজত্ব করছেন। নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী বা আরশাদ ওয়ার্সিদের মতো অভিনেতারা নিয়মিত কাজ করছেন। সঙ্গীত জগতেও নওশাদ সাহেব বা ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানরা ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। জাভেদ আখতার থেকে শুরু করে গায়ক শান—সবাই একবাক্যে রহমানের এই ‘সাম্প্রদায়িক’ তত্ত্বকে নস্যাৎ করেছেন। এমনকি কঙ্গনা রানাউত দাবি করেছেন, তিনি ‘ইমারজেন্সি’ ছবির জন্য রহমানকে চেয়েছিলেন, কিন্তু বিজেপি যোগের কারণে রহমানই পিছিয়ে যান।
পরিচয় সংকট না কি প্রচারের আলো? রহমানের জন্ম হিন্দু পরিবারে, নাম ছিল শেখর দিলীপ কুমার। ২৩ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তার কালজয়ী গান “মা তুঝে সালাম” হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে ভারতীয়রা মাথায় তুলে নিয়েছে। কিন্তু আজ যখন তিনি গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান, তখন তা কেবল তাকেই নয়, বরং গোটা মুসলিম সম্প্রদায়কে এক অস্বস্তিকর জায়গায় ঠেলে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, নিজের ক্যারিয়ারের ভাটা সামলাতে অন্যের দিকে আঙুল তোলা কোনও প্রকৃত শিল্পীর পরিচয় হতে পারে না।