ফড়নবিস-শিন্ডেকে জেলে পাঠানোর চক্রান্ত! প্রাক্তন ডিজিপি রশ্মি শুক্লার রিপোর্টে তোলপাড় মহারাষ্ট্র

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন ভূমিকম্প শুরু হয়েছে প্রাক্তন ডিজিপি রশ্মি শুক্লার একটি বিস্ফোরক রিপোর্ট ঘিরে। এসআইটি (SIT) তদন্তের ভিত্তিতে জমা দেওয়া এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, তৎকালীন মহা বিকাশ আঘাদি (MVA) সরকারের চাপে তৎকালীন ডিজিপি সঞ্জয় পান্ডে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলেন। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের পর সঞ্জয় পাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
রশ্মি শুক্লা অবসর নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিন আগে স্বরাষ্ট্র দপ্তরে এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি জমা দেন। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, সঞ্জয় পান্ডে পদাধিকার বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে ২০১৬ সালের থানে নগর থানার একটি চাঁদাবাজির মামলার পুনঃতদন্ত করে ফড়নবিস ও শিন্ডেকে অভিযুক্ত করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো। তদন্তে উঠে এসেছে যে, তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহলের নির্দেশেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।
রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, মিরা-ভায়ান্দর পুর কমিশনার এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের একটি ভুয়ো শংসাপত্র কেলেঙ্কারিতে ফড়নবিসের নাম জড়ানোর জন্য ব্যাপক চাপ দেওয়া হয়েছিল। যদিও কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি, তবুও ডেপুটি কমিশনার লক্ষ্মীকান্ত পাতিলের নির্দেশে তদন্ত প্রক্রিয়াকে ফড়নবিসের দিকে ঘোরানোর চেষ্টা হয়। সহকারী পরিদর্শক সর্দার পাতিলও ২০২৪ সালে দেওয়া জবানবন্দিতে এই ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেছেন। সঞ্জয় পান্ডে ছাড়াও লক্ষ্মীকান্ত পাতিল ও সর্দার পাতিলের বিরুদ্ধেও মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে রিপোর্টে। এই ঘটনা মহা বিকাশ আঘাদি সরকারের মেয়াদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।