আই-প্যাক অফিসে ইডির হানা! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ, পাল্টা যুক্তি দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা

বাংলায় আই-প্যাক (I-PAC) অফিস এবং এর পরিচালক প্রতীক জৈনের বাড়িতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) অভিযান ঘিরে চরমে পৌঁছেছে রাজনৈতিক তরজা। বিষয়টি ইতিপূর্বেই হাইকোর্টের দরজায় কড়া নেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদক্ষেপকে একটি রাজনৈতিক দলের ওপর সরাসরি আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন। তবে ইডি এই অভিযোগ কড়া ভাষায় অস্বীকার করেছে এবং এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে।

ইডির দাবি, রাজনৈতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে যে তারা আই-প্যাকের ওপর অভিযান চালিয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার মতে, তাদের এই তদন্ত ও তল্লাশি মূলত পরিচালিত হয়েছে ‘ইন্ডিয়ান প্যাক কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে, সরাসরি আই-প্যাকের বিরুদ্ধে নয়। ইডির নথিতে দেখা যাচ্ছে, এই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির প্যান নম্বর (AADCI8016Q) এবং পশ্চিমবঙ্গ, গোয়া, অন্ধ্রপ্রদেশ, দিল্লি সহ মোট সাতটি রাজ্যে জিএসটি রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। মূলত আর্থিক লেনদেনের অসঙ্গতি খতিয়ে দেখতেই এই বিপুল ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের ওপর নজর রাখা হয়েছে।

সহজ কথায়, আই-প্যাক একটি রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা হিসেবে পরিচিত হলেও, ইডির স্ক্যানারে রয়েছে এর মূল ব্যবসায়িক কাঠামো ‘ইন্ডিয়ান প্যাক কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড’। আইনিভাবে এই দুটি সত্তা আলাদা হওয়ায় ইডি জানাচ্ছে, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের ওপর আক্রমণ নয়, বরং একটি সংস্থার আর্থিক তদন্ত।

অভিযানের পর মুখ খুলেছে আই-প্যাকও। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “কলকাতায় আমাদের অফিস ও পরিচালক প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। পেশাদার সংস্থা হিসেবে এটি আমাদের জন্য একটি কঠিন ও দুর্ভাগ্যজনক দিন। এই ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে এবং একটি নেতিবাচক নজির স্থাপন করছে। তা সত্ত্বেও আমরা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও আইনের পথে থেকে কাজ চালিয়ে যাব।” তল্লাশি সত্ত্বেও তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনো বাধা ছাড়াই চলবে বলে বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।