৮ মাস কাটল না স্বস্তি, কাতারের জেলেই কি কাটবে শেষ জীবন? মোদীর কাছে কান্নায় ভাঙলেন পূর্ণেন্দুর মা

কাতার থেকে আট প্রাক্তন নৌ-সেনা অফিসারের মুক্তির আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হলো না। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, কমান্ডার পূর্ণেন্দু তিওয়ারিকে গত ডিসেম্বরে আদালতের একটি রায়ের পর কাতারে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরে গত মাসে তাঁকে পুনরায় আটক করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ।
ফিরে আসার অপেক্ষা ও বর্তমান পরিস্থিতি: ২০২২ সালের আগস্ট মাসে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পূর্ণেন্দু তিওয়ারিসহ আটজন ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মীকে আটক করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে ভারত সরকার কূটনৈতিক স্তরে জোরালো হস্তক্ষেপ করে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয় এবং সাতজন ভারতে ফিরে আসেন। কিন্তু পূর্ণেন্দুকে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাতারেই থেকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরিবারের আকুল আবেদন ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: পূর্ণেন্দুর দিদি মিতু ভার্গব অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের সংস্থা ‘দহারা গ্লোবাল’-এর সিইও নিজের প্রভাব খাটিয়ে সমস্ত আর্থিক দায় তাঁর ভাইয়ের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। এমনকি নির্জন কারাবাসে আটকে রেখে জোরপূর্বক নথিতে সই করানোর অভিযোগও উঠেছে। ৬৫ বছর বয়সী এই প্রাক্তন সেনার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে দোহা কারাগারে। ভারতে থাকা তাঁর ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা ছেলের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
বিদেশ মন্ত্রকের অবস্থান: বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে যে তারা পূর্ণেন্দু তিওয়ারি ও তাঁর পরিবারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তবে বিষয়টি বর্তমানে কাতারি আদালতে বিচারাধীন হওয়ায় ভারত সরকার খুব বেশি মন্তব্য করতে রাজি নয়। পরিবার এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বিতীয় দফার হস্তক্ষেপের আশায় দিন গুনছে, যাতে এই ‘জাতীয় সম্মানের’ বিষয়টি দ্রুত মিটে যায়।