২০২৬-এর প্রথম বড় একাদশী: মাঘ মাসের ষষ্ঠীলা একাদশীতে তিলের ৬ অলৌকিক ব্যবহারেই খুলবে ভাগ্যের দুয়ার!

হিন্দুধর্মে প্রতিটি একাদশীর গুরুত্ব থাকলেও মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই তিথিটি অত্যন্ত মহিমান্বিত। ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি পালিত হতে চলেছে ‘ষষ্ঠীলা একাদশী’। শাস্ত্রে একে কেবল ব্রত নয়, বরং আত্মশুদ্ধি এবং পুণ্য অর্জনের এক মহাপর্ব হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

নামের রহস্য ও তিলের ৬ ব্যবহার: সংস্কৃত শব্দ ‘ষট’ মানে ছয় এবং ‘তিলা’ মানে তিল। অর্থাৎ এই দিনে তিলকে ছয়টি বিশেষ উপায়ে ব্যবহার করতে হয়— তিল মিশ্রিত জলে স্নান, তিল বাটা মাখা, তিল তর্পণ, তিল দিয়ে হোম, তিল দান এবং তিল ভক্ষণ। পদ্ম পুরাণ ও ভবিষ্য পুরাণে উল্লেখ আছে যে, শীতের এই সময়ে তিল শরীরের অগ্নি উপাদানকে সচল রাখে এবং মনের স্থিতিশীলতা প্রদান করে।

শাস্ত্রে তিলের বিশেষ গুরুত্ব: পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, তিল উৎপন্ন হয়েছিল স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর দেহ থেকে। তাই বিষ্ণু পূজায় তিল অপরিহার্য। এই দিনে তিল দান করলে দারিদ্র্য, রোগ এবং মানসিক অশান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এমনকি পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য তিল অর্পণ করা এই তিথিতে বিশেষ ফলদায়ক।

একাদশীর মাহাত্ম্য ও সেই অবাক করা কাহিনী: শাস্ত্রীয় কাহিনী অনুসারে, এক বৃদ্ধা ব্রাহ্মণী কঠোর তপস্যা ও উপবাস করলেও কখনও কাউকে অন্ন বা তিল দান করেননি। ফলে স্বর্গে গিয়েও তাঁর স্থান হয়েছিল শূন্য ও সম্পদহীন। ভগবান বিষ্ণুর উপদেশে তিনি পুনরায় ষষ্ঠীলা একাদশী ব্রত পালন করে তিল দান করেন এবং তাঁর স্বর্গীয় আবাস ঐশ্বর্যে ভরে ওঠে। এই কাহিনী আমাদের শেখায় যে, দানের মাধ্যমেই পুণ্য সম্পূর্ণ হয়। তাই মাঘ মাসের এই পবিত্র তিথিতে ভক্তি ও নিয়ম মেনে উপবাস পালন করা মুমুক্ষু ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।