মোদী ফোন করেননি বলেই কি ভারত আজ ‘শুল্ক’ বৈষম্যের শিকার? মার্কিন বাণিজ্য সচিবের বিস্ফোরক দাবি!

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ফাটল এবার প্রকাশ্যে এল। মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি ফোন না করার কারণেই দুই দেশের মধ্যে বহুপ্রতিক্ষিত বাণিজ্য চুক্তিটি ব্যর্থ হয়েছে। ‘অল-ইন পডকাস্ট’-এ বিনিয়োগকারী চামাথ পালিহাপিত্যিয়ার সাথে কথা বলার সময় লুটনিক জানান, ট্রাম্প সব দিক থেকে প্রস্তুত থাকলেও মোদীর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত পদক্ষেপ না আসায় সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।
ফোন না করার সেই ‘অস্বস্তি’ লুটনিকের বয়ান অনুযায়ী, “চুক্তিটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। মোদীকে কেবল প্রেসিডেন্টকে একটি ফোন করতে হতো। কিন্তু তিনি সম্ভবত তাতে অস্বস্তি বোধ করেছিলেন এবং ফোন করেননি। ফলাফল হিসেবে, পরের সপ্তাহেই আমরা ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং ভিয়েতনামের সাথে বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করি।” ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আমেরিকা ইইউ, যুক্তরাজ্য এবং জাপানের মতো দেশগুলির সাথে শুল্ক আলোচনা সম্পন্ন করলেও ভারতের নাম সেই তালিকা থেকে বাদ পড়ে।
এশিয়ার সর্বোচ্চ শুল্কের মুখে ভারত বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানির ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। লুটনিক বলেন, “ভারত মনে করেছিল তারা আলোচনা চালিয়ে যেতে পারবে, কিন্তু তারা আসলে স্টেশন ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিল।” ভারতের পক্ষ থেকে পরে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও আমেরিকা জানিয়ে দেয় যে সময় পেরিয়ে গেছে। অন্যদিকে, ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো দ্রুত চুক্তি করায় ভারত পিছিয়ে পড়ে, যদিও তাদের রপ্তানিতেও শুল্কের হার এখনও যথেষ্ট চড়া।
মোদী-ট্রাম্প সম্পর্কের রসায়ন ও টানাপোড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর মোদী প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে ছিলেন যারা আমেরিকা সফর করেছিলেন। কিন্তু বাণিজ্য ও কূটনীতির টেবিলে চিত্রটা ছিল আলাদা। ট্রাম্প আশা করেছিলেন ভারতের সাথে চুক্তি করা সবথেকে সহজ হবে, কিন্তু তা হয়নি। বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যুতে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করা এবং আমেরিকার কঠোর বাণিজ্যিক শর্তের মুখে নতি স্বীকার না করার ভারতের অনমনীয় অবস্থান সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ৪টি শীর্ষ সম্মেলনের পরেও একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি তাই আজও অধরা।