আমেরিকার নজরে ইরানের ২০% বিশ্ববাণিজ্য! হোয়াইট হাউসের ৪৭ বছরের জেদ কি এবার সফল হবে?

মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে আধিপত্য থাকলেও গত ৪৭ বছর ধরে আমেরিকার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান। ১৯৭৯ সালের পর থেকে তেহরানকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ওয়াশিংটন একাধিক চাল চাললেও বারবার ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ নিয়ে আমেরিকা বাড়তি সতর্ক। বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানালেও সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে এবার ‘ফুঁকে ফুঁকে পা ফেলছে’ বাইডেন প্রশাসন।
কেন ইরান আমেরিকার জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ? এর পিছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, ইরানকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে আমেরিকা বিশ্বজুড়ে ইসলামি কট্টরপন্থার মূলে বড় আঘাত হানতে পারবে। দ্বিতীয়ত, ইরানের ওপর নিয়ন্ত্রণ মানে বিশ্বের ২০ শতাংশ বাণিজ্যের চাবিকাঠি সরাসরি আমেরিকার হাতে আসা।
হরমোজ প্রণালী: বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ ‘হরমোজ প্রণালী’ বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণে। পারস্য উপসাগর থেকে খোলা সমুদ্রে পৌঁছানোর একমাত্র পথ এটি। বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক তেল বাণিজ্যের ২৫ শতাংশ এবং লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (LNG) বাণিজ্যের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই যাতায়াত করে। প্রতিদিন গড়ে ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এখান দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বিশ্ব উৎপাদনের এক-পঞ্চমাংশ। ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন সংঘাতের সময় ইরান এই জলপথে মাইন বিছিয়ে দিলে বাধ্য হয়েই আমেরিকাকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হয়েছিল।
ইতিহাস ও তেলের রাজনীতি ১৯৫৩ সালে সিআইএ-র মদতে নির্বাচিত মোসাদ্দেক সরকারকে হটিয়ে শাহ বংশের শাসন কায়েম করেছিল আমেরিকা। টানা ২৬ বছর ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। কিন্তু ১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেইনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লব সেই নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয়। এরপর আয়াতুল্লাহ খামেনেইর আমলে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
বর্তমানে বিশ্বের মোট তেলের ভাণ্ডারের ১২ শতাংশ (২০৮ বিলিয়ন ব্যারেল) ইরানের দখলে। বিশেষ করে চীনের কাছে সস্তায় তেল বিক্রি করে ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। আমেরিকার আসল নজর এখন ইরানের এই বিশাল তেল রিজার্ভ এবং কৌশলগত অবস্থানের ওপর।