মোদী ফোন করেননি বলেই কি ভেস্তে গেল ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি? লুটনিকের দাবিতে তোলপাড় বিশ্ব!

ভারত ও আমেরিকার দীর্ঘপ্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি সামনে আনলেন মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক। তাঁর মতে, চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন না করায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে লুটনিক জানান, “আমি চুক্তিটি গুছিয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু এর জন্য মোদীকে ট্রাম্পের সাথে কথা বলতে হতো। ভারত সম্ভবত এতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেনি, তাই মোদী ফোন করেননি।” আর এই ফোনের অপেক্ষাতেই ‘ট্রেন স্টেশন ছেড়ে চলে গিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
৫০০ শতাংশ শুল্কের খাঁড়া: নতুন সঙ্কটে ভারত বাণিজ্য চুক্তি না হওয়ায় ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক এখন তলানিতে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জেরে ইতিমধ্যে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। কিন্তু এবার সেই শুল্কের পরিমাণ আকাশছোঁয়া করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, ট্রাম্প ‘স্যাংশন রাশিয়ান অ্যাক্ট ২০২৫’ বিলে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। এই বিল কার্যকর হলে রাশিয়া থেকে তেল ও ইউরেনিয়াম কেনা দেশগুলির ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপাতে পারবে আমেরিকা। ভারত, চীন ও ব্রাজিল এই আইনের প্রধান লক্ষ্য।
চাপের রাজনীতি বনাম সার্বভৌমত্ব লুটনিকের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, হোয়াইট হাউস এখন সরাসরি ‘চাপের রাজনীতি’ শুরু করেছে। ট্রাম্পের দাবি ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর কাছে চুক্তির জন্য ‘অনুনয়’ করেছিলেন, যা এখন লুটনিকের বয়ানে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উঠে আসছে। দিল্লির অবস্থান অবশ্য স্পষ্ট— ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো বাইরের শক্তির চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও এর আগে জানিয়েছিলেন যে, কোনো তাৎক্ষণিক চাপের মুখে ভারত চুক্তি করবে না।
সবার নজর এখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের এই একতরফা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমেরিকার ভেতরেই আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। আজ, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি, ২০২৬), মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বৈধতা নিয়ে রায় দিতে পারে। যদি আদালত এই শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন বড়সড় আন্তর্জাতিক অস্বস্তিতে পড়বে এবং আমদানিকারকদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হবে।