“BJP-র কৌস্তভ নিজেই মুসলিম দোকানের বিরিয়ানি খান”-ফের আক্রমণ কুণালের

বাংলার রাজনীতিতে এবার প্রবেশ করল ‘বিরিয়ানি’ ও ‘হালাল’ বিতর্ক। বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি হিন্দুদের দোকান ছাড়া অন্য কোথাও থেকে বিরিয়ানি বা মাংস কিনতে নিষেধ করেছেন। আর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই কৌস্তভকে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
কৌস্তভের বিস্ফোরক ফতোয়া: বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আইপিএল-এ মুস্তাফিজুর রহমানের খেলা নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন কৌস্তভ বাগচী। তিনি সাফ জানান, কলকাতা নাইট রাইডার্সে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে জায়গা দেওয়া যাবে না। এমনকি শাহরুখ খানকেও কলকাতায় ঢুকতে না দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই তিনি সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেন, “হিন্দু ভাইয়ের দোকান ছাড়া বিরিয়ানি বা মাংস কিনবেন না। আমরা হালাল মাংসও খাব না।” তাঁর দাবি, অর্থনৈতিকভাবে নিজের ধর্মাবলম্বীদেরই সাহায্য করা উচিত।
কুণালের পাল্টা চাল: কৌস্তভের এই ‘বয়কট’ ডাকের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি কুণাল ঘোষ। তিনি কৌস্তভের পুরনো একটি ফেসবুক পোস্টের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। কুণাল লেখেন, “মুসলিম দোকান থেকে বিরিয়ানি খাবেন না বলে ফতোয়া দিচ্ছেন কৌস্তভ, অথচ তাঁর নিজেরই পুরনো পোস্টে ‘করিমস’-এর বিরিয়ানি খাওয়ার উল্লেখ আছে।” কুণাল আরও যোগ করেন, এই ধরনের বিষাক্ত কথা অর্থহীন, এবং কৌস্তভের এই ফতোয়া আসলে একটি ‘সেমসাইড গোল’।
বিতর্কের মূলে কী? মূলত বাংলাদেশে হিন্দু নিধন ও অত্যাচারের প্রতিবাদ জানাতেই কড়া অবস্থান নিয়েছেন কৌস্তভ। তাঁর লক্ষ্য ছিল কেকেআর এবং শাহরুখ খান। কিন্তু প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় মেরুকরণের ডাক দেওয়ায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। একদিকে যখন বিজেপি নেতা নিজের অবস্থানে অনড়, অন্যদিকে তৃণমূল একে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছে।