একই দিনে সংক্রান্তি ও একাদশী! তবে কি খিচুড়ি দান নিষিদ্ধ? ২০২৬ সালের শুরুতেই বড় বিভ্রান্তি!

২০২৬ সালের শুরুতেই ধর্মীয় বিধি-বিধান নিয়ে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। হিন্দু ধর্মে মকর সংক্রান্তি মানেই গঙ্গাস্নান আর খিচুড়ি দান। কিন্তু আগামী ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তির সঙ্গেই পড়েছে মাঘ মাসের ‘ষটতিলা একাদশী’। আর এই সংযোগই তৈরি করেছে চরম বিভ্রান্তি। কারণ, শাস্ত্র মতে একাদশীর দিনে চাল স্পর্শ করা বা দান করা নিষিদ্ধ। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে— এবার কি তবে মকর সংক্রান্তিতে খিচুড়ি দান করা যাবে না?
কেন এই বিভ্রান্তি? জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি বুধবার সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করবে। দিনটি মকর সংক্রান্তি হিসেবে পালিত হলেও তিথি অনুযায়ী সেদিন একাদশী। ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, একাদশীতে ভাত খাওয়া বা দান করা মহর্ষি মেধার শরীরের অবমাননার শামিল। এমনকি এই দিনে চাল গ্রহণ করাকে পশু হত্যার সমান পাপ বলে মনে করেন অনেকে। ফলে মকর সংক্রান্তির প্রধান অঙ্গ ‘খিচুড়ি দান’ নিয়ে ভক্তরা সংশয়ে পড়েছেন।
জ্যোতিষীদের পরামর্শ ও প্রতিকার: জ্যোতিষীরা জানাচ্ছেন, শাস্ত্রে একাদশীর নিয়ম অত্যন্ত কঠোর। তাই ১৪ জানুয়ারি কাঁচা চাল বা চালের খিচুড়ি দান এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। তবে পুণ্য অর্জনের বিকল্প পথও বাতলে দিয়েছেন তাঁরা:
তিল দান: যেহেতু এটি ষটতিলা একাদশী, তাই চালের বদলে তিল, গুড়, কম্বল বা বস্ত্র দান করলে দ্বিগুণ পুণ্য লাভ হবে।
দ্বাদশী তিথিতে দান: যারা ঐতিহ্য মেনে খিচুড়িই দান করতে চান, তারা ১৫ জানুয়ারি অর্থাৎ দ্বাদশী তিথিতে দান করতে পারেন। এতে সংক্রান্তি ও একাদশী— উভয় ব্রতর ফলই বজায় থাকবে।