শিক্ষিত করে চাকরি পেতেই ভোলবদল? এসআই স্ত্রীর নিশানায় স্বামী, হাপুরে চাঞ্চল্যকর ‘যৌতুক’ মামলা

উত্তর প্রদেশের হাপুরে এক চাঞ্চল্যকর পারিবারিক বিবাদ প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে একজন মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর (SI) তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত স্বামীর দাবি—নিজে কষ্ট করে স্ত্রীকে পড়াশোনা করিয়ে পুলিশ অফিসার বানানোর প্রতিদান হিসেবে তিনি আজ মিথ্যা মামলার শিকার।

ঘটনার সূত্রপাত ১৩ নভেম্বর, ২০২৫। বরেলি জেলায় কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর পায়েল রানী হাপুরের সিটি থানায় স্বামী গুলশান এবং শ্বশুরবাড়ির আরও ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। পায়েলের অভিযোগ, ২০২২ সালে তাঁদের বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকেরা ১০ লক্ষ টাকা নগদ এবং একটি দামি গাড়ির দাবিতে তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত। এমনকি তাঁকে অ্যাসিড ছুঁড়ে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি পুলিশ সুপার কুনওয়ার জ্ঞানেন্দ্র সিংয়ের কাছে অভিযোগ জানান।

পায়েল রানীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং স্বামী গুলশানসহ পরিবারের ছয় জনের বিরুদ্ধে যৌতুক বিরোধী আইন ও শারীরিক নিগ্রহের ধারায় মামলা রুজু করে। তবে এই মামলার পর পালটা বিস্ফোরক দাবি করেছেন স্বামী গুলশান।

গুলশানের দাবি অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২১ সালে তাঁরা কোর্ট ম্যারেজ করেন এবং পরে ২০২২ সালে ধুমধাম করে সামাজিক বিয়ে হয়। গুলশান বলেন, “আমি আমার তিল তিল করে জমানো অর্থ দিয়ে পায়েলকে উচ্চশিক্ষিত করেছি। ও আজ যে সাব-ইন্সপেক্টর হতে পেরেছে, তার পেছনে আমার অক্লান্ত পরিশ্রম ও আর্থিক সহায়তা রয়েছে। কিন্তু চাকরি পাওয়ার পরই ওর আচরণ বদলে যায় এবং এখন আমাকে ও আমার পরিবারকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা করেছে।”

বর্তমানে গুলশান হাপুরের পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। এক সময়ের ভালোবাসার সম্পর্ক এখন আদালত আর থানার দোরগোড়ায়। এখন দেখার বিষয়, পুলিশের তদন্তে শেষ পর্যন্ত কোন সত্য বেরিয়ে আসে।