মধ্যরাতে হাহাকার! নোনাডাঙা বস্তিতে বিধ্বংসী আগুন, ছাই হয়ে গেল ১০০টি পরিবার

কলকাতার আনন্দপুর থানার অন্তর্গত নোনাডাঙা বস্তিতে বুধবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শীতের রাতে যখন অধিকাংশ বাসিন্দা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, ঠিক তখনই আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় গোটা বস্তি এলাকাকে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই বিধ্বংসী আগুনে প্রায় ১০০টিরও বেশি ঝুপড়ি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।
ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা প্রাণভয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ঘরে থাকা আসবাবপত্র, পোশাক বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র বের করার ন্যূনতম সুযোগ পাননি কেউ। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় কেবল ধ্বংসস্তূপের ছবি। কোথাও পোড়া আলমারি, কোথাও বা খাটের কঙ্কাল পড়ে রয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক ঘণ্টার আগুনে তাঁদের তিল তিল করে জমানো সব পুঁজি ছাই হয়ে গিয়েছে। এক শোকাতুর মহিলা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, “আমি কিছুই বের করতে পারিনি। ঘরে সব জমানো টাকা ছিল, সোনার গয়না ছিল। আগুনের তাণ্ডবে সব শেষ হয়ে গেল।” অন্যদিকে, মানবিকতার অভাবও প্রকট হয়েছে এই বিপর্যয়ে। এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন যে, ঘর থেকে কোনোমতে রান্নার সিলিন্ডারগুলো বাইরে বের করে রাখতে পেরেছিলেন, কিন্তু সেই সুযোগে দুষ্কৃতীরা সেগুলোও চুরি করে নিয়ে চম্পট দিয়েছে।
আরেক বাসিন্দা আক্ষেপের সুরে বলেন, “টাকা-পয়সার চেয়েও বড় ক্ষতি হলো ডকুমেন্টের। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড থেকে শুরু করে সব জরুরি কাগজ পুড়ে গিয়েছে। এখন আমরা কোথায় যাব, কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।” দমকলের প্রাথমিক ধারণা, শর্ট সার্কিট বা রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। বর্তমানে পুলিশ ও প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখছে এবং দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।