‘টাইগার ইজ ব্যাক’, দিলীপের পোস্টার পড়তেই শুভেন্দুকে নিশানা তৃণমূলের

সেই চেনা মেজাজ, সেই চেনা আক্রমণ! মঙ্গলবার নদিয়ার রানাঘাটে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র মঞ্চে যখন মাইক হাতে নিলেন দিলীপ ঘোষ, তখন কর্মী-সমর্থকদের হাততালিতে কান পাতা দায়। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছিল, তবে কি স্বমহিমায় ফিরছেন রাজ্য বিজেপির এই প্রাক্তন সভাপতি? সেই জল্পনায় ঘি ঢালল কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ধারের একগুচ্ছ রহস্যময় পোস্টার। যেখানে দিলীপের ছবির পিছনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি দিয়ে লেখা— ‘বেঙ্গল টাইগার ইজ ব্যাক’

কেন হঠাৎ এই মেজাজ? গত বছর দিঘায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর থেকেই বিজেপির মূল কর্মসূচিতে কিছুটা ‘নিষ্ক্রিয়’ দেখাত দিলীপ ঘোষকে। এমনকি তাঁর দলবদল নিয়েও জল্পনা ছড়িয়েছিল। তবে সম্প্রতি অমিত শাহের বাংলা সফরের সময় দিলীপের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্রের খবর, শাহের সেই বার্তাই বদলে দিয়েছে ছবিটা। দিলীপ নিজেও জানিয়েছেন, শাহ তাঁকে পূর্ণশক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তৃণমূলের খোঁচা ও শুভেন্দু প্রসঙ্গ: দিলীপের এই ‘ফেরা’ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসকদল। তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ এদিন বলেন, “দিলীপবাবু কী করবেন তাতে বাংলার মানুষের আগ্রহ নেই। তবে তাঁর এই সক্রিয়তায় শুভেন্দু অধিকারীর রাজনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে। শুভেন্দুবাবুই এর ভালো জবাব দিতে পারবেন।” রাজনীতির কারবারিদের মতে, দিলীপ বনাম শুভেন্দু ‘লড়াই’ উসকে দিতেই তৃণমূলের এই কৌশল।

সুকান্ত মজুমদারের পাল্টা: দলের অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “বিজেপিতে কোনো কোন্দল নেই। পোস্টার তৃণমূলও ফেলতে পারে। বিজেপি এখন একজোট এবং ছাব্বিশের নির্বাচনে এই ‘তৃণমূল আপদ’ বিদেয় করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”

একদিকে শমীক ভট্টাচার্যকে পাশে নিয়ে দিলীপের হুঙ্কার, অন্যদিকে নেপথ্যে পোস্টারের রাজনীতি— সব মিলিয়ে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে বঙ্গ বিজেপির অন্দরমহল যে বেশ তপ্ত, তা বলাই বাহুল্য।