BJP-নেতার বিরুদ্ধে ট্রেন থেকে বেডশিট চুরির অভিযোগ,পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলেন নেতা

ট্রেনের এসি কামরার বেডশিট বা চাদর কি নিজের ব্যাগে পুরে ফেলেছিলেন হুগলির এক বিজেপি নেতা? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে এখন এই প্রশ্নেই উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। অভিযুক্ত নেতার নাম মৃন্ময় মজুমদার। তিনি চুঁচুড়ার বাসিন্দা, পেশায় আইনজীবী এবং হুগলি বিজেপি লিগ্যাল সেলের কনভেনার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চোর-পুলিশ খেলায় মেতেছে তৃণমূল ও বিজেপি।
ঘটনাটি ঠিক কী? সোমবার চুঁচুড়া থেকে ‘হুল এক্সপ্রেস’-এ চেপে সিউড়ি আদালতে যাচ্ছিলেন মৃন্ময় মজুমদার। সেই সফরেরই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (যার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম)। অভিযোগ, ট্রেনের এসি কামরায় যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া বেডশিট তিনি নিজের ব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়েছিলেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রেল কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদ চলছে এবং এক পর্যায়ে তাঁকে ‘সরি’ বলতেও শোনা যায়।
তৃণমূলের আক্রমণ: ভিডিওটি হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল পেজ থেকে পোস্ট করে বলা হয়েছে, “বিজেপির সংস্কারের মুখোশ খুলে পড়েছে।” হুগলি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরিন্দম গুঁইন কটাক্ষ করে বলেন:
“যিনি পেশায় আইনজীবী, ন্যায়ের জন্য লড়েন, তাঁর এই কাণ্ড? ক্ষমতায় আসার আগেই এরা সরকারি সম্পত্তি চুরি শুরু করে দিয়েছে।”
পাল্টা সাফাই বিজেপি নেতার: চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে মৃন্ময় মজুমদার একে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর পাল্টা অভিযোগ:
-
তাঁকে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কিছু লোক।
-
টয়লেটে যাওয়ার সময় তাঁকে হেনস্থা করা হয়।
-
তিনি চাদর চুরি করেননি, বরং অন্য এক যাত্রীর সঙ্গে রেল কর্মীদের বিবাদ মেটাতে গিয়েছিলেন।
-
তাঁর দাবি, “আমার আড়াই লাখ টাকার ফোন-ল্যাপটপ আছে, আমি অন্যের ব্যবহৃত চাদর চুরি করতে যাব কেন? সম্মানহানি করতেই এই ভিডিও এডিট করে ছড়ানো হয়েছে।”
আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি: বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো এবং হাওড়ার ডিআরএম-কে চিঠি লিখে পুরো বিষয়টি জানিয়েছেন। যারা এই ভিডিও ভাইরাল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি মানহানির মামলা করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে এই ‘চাদর-কাণ্ড’ যে হুগলির রাজনীতিতে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করল, তা বলাই বাহুল্য।