স্বামীকে লিভার দিয়ে নিজেই পড়লেন মহাবিপদে! কলকাতার চিকিৎসকদের ম্যাজিকে কীভাবে প্রাণ ফিরল ত্রিপুরার শিক্ষিকার?

তিন বছর আগে স্বামীকে বাঁচাতে নিজের লিভারের অংশ দান করেছিলেন আগরতলার স্কুল শিক্ষিকা নুপুর সরকার। স্বামী সুস্থ হয়ে উঠলেও, জীবনদাত্রী নুপুরের শরীরে দানা বেঁধেছিল এক জটিল সমস্যা। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর কলকাতার আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের হাত ধরে অবশেষে যন্ত্রণামুক্ত হলেন ত্রিপুরার সেই বীরাঙ্গনা। বাইপাসের ধারের এক বেসরকারি হাসপাতালে ‘কী-হোল’ সার্জারির মাধ্যমে অসাধ্য সাধন করলেন চিকিৎসকরা।

লিভার দানের পর ঘনিয়েছিল বিপদ: ২০২৩ সালে স্বামীর লিভার সিরোসিস ধরা পড়ার পর নুপুর দেবী দ্বিধাহীনভাবে লিভারের অংশ দান করেন। চেন্নাইতে সেই সফল ট্রান্সপ্ল্যান্টের পর স্বামী সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু নিজের শরীরের ধকল ও স্কুল-সংসারের কাজের চাপে নুপুরের অস্ত্রোপচারের জায়গায় তৈরি হয় বিশাল এক ‘ইনসিশনাল হার্নিয়া’। দিন দিন বাড়তে থাকা ব্যথা ও অস্বস্তিতে স্বাভাবিক চলাফেরাই দুষ্কর হয়ে পড়েছিল ৪৫ বছর বয়সি এই শিক্ষিকার।

কলকাতার চিকিৎসকদের ‘ম্যাজিক’: ফের বড় কোনো ওপেন সার্জারির ভয়ে সিঁটিয়ে ছিলেন নুপুর দেবী। এই অবস্থায় তিনি কলকাতার ই এম বাইপাস সংলগ্ন হাসপাতালের চিকিৎসক সুমন্ত দে-র শরণাপন্ন হন। চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখেন, হার্নিয়াটি বেশ বড় হলেও তা উন্নত ‘অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কোপিক’ পদ্ধতিতে সারিয়ে তোলা সম্ভব।

অস্ত্রোপচারের বিশেষত্ব:

  • রক্তপাতহীন সার্জারি: সম্পূর্ণ ‘কী-হোল’ পদ্ধতিতে প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে চলে এই ল্যাপারোস্কোপিক অপারেশন। এতে শরীরের ওপর চাপ এবং যন্ত্রণার ছিটেফোঁটাও ছিল না।

  • দ্রুত রিকভারি: এই আধুনিক পদ্ধতির কামাল এমনই যে, অস্ত্রোপচারের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগী নিজের পায়ে হাঁটতে শুরু করেন।

  • পরদিনই ছুটি: যেখানে বড় অপারেশনে দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকতে হয়, সেখানে নুপুর দেবী অস্ত্রোপচারের পরের দিনই বাড়ি ফেরার অনুমতি পান।

হাসিমুখে ঘরে ফেরা: অপারেশনের দু’সপ্তাহ পর ফলো-আপ পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে নুপুর সরকার এখন সম্পূর্ণ ফিট। আবেগপ্লুত নুপুর দেবী জানান, “বড় সার্জারির ভয় মনের মধ্যে একটা পাহাড়ের মতো বোঝা হয়ে ছিল। কিন্তু কলকাতার এই চিকিৎসায় আমি নতুন জীবন পেলাম। অস্ত্রোপচারের দিনেই হাঁটতে পারব ভাবিনি!”

চিকিৎসক সুমন্ত দে-র কথায়, যখন জটিল হার্নিয়া সত্ত্বেও রোগী বড় কাটাছেঁড়া চান না, তখনই এই আধুনিক ল্যাপারোস্কোপিক অ্যাবডোমিনাল ওয়াল রিকনস্ট্রাকশন সার্জারি জীবন বদলে দিতে পারে। কলকাতার এই সাফল্য উত্তর-পূর্ব ভারতের রোগীদের জন্য এক নতুন দিশা দেখাল।