ত্রাণের টাকাতেও থাবা! মালদায় ১০০ কোটির মহাকেলেঙ্কারি? ক্যাগ রিপোর্ট হাতিয়ার করে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ফের দুর্নীতির বড়সড় বোমা ফাটাল বিজেপি। এবার অভিযোগের তির খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দিকে। শনিবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সাফ জানানো হয়েছে, মালদা জেলায় বন্যাত্রাণ বিলিতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বিশাল দুর্নীতি হয়েছে। হাতিয়ার করা হয়েছে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (CAG) সাম্প্রতিক রিপোর্টকে।

একই অ্যাকাউন্টে ৪২ বার টাকা!

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র কে কে শর্মা সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন, মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকে ত্রাণ বিলিতে নজিরবিহীন অনিয়ম ধরা পড়েছে। সিএজি (CAG) রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী:

  • প্রায় ৬,৯৬৫ জন ব্যক্তিকে বারবার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

  • অবাক করার মতো বিষয় হলো, একই বাড়ির জন্য একই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৪২ বার পর্যন্ত টাকা ঢোকানো হয়েছে!

  • যে সমস্ত পাকা বাড়ির কোনো ক্ষতিই হয়নি, এমন ১,৬০৯টি বাড়ির মালিককে প্রায় ৭.৫ কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

আবেদন না করেই মিলল কোটি কোটি টাকা

বিজেপির অভিযোগ আরও গুরুতর। তাদের দাবি, প্রায় ৭ কোটি টাকা এমন সব ব্যক্তিদের মধ্যে বিলি করা হয়েছে যারা কোনোদিন আবেদনই করেননি। এছাড়া সরকারি বেতনভুক কর্মচারী, জন প্রতিনিধি এবং শাসক দলের ঘনিষ্ঠ অন্তত ১০৮ জন ব্যক্তিকে ‘বিপিএল’ (BPL) তালিকাভুক্ত দেখিয়ে ত্রাণের টাকা দেওয়া হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত

বন্যাত্রাণ নিয়ে একাধিক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট সিএজি-কে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য প্রশাসন। বিজেপি একে “সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ডাকাতি” বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, ২০২৬-এর নির্বাচনে এই “লুটতরাজ”-এর যোগ্য জবাব দেবে বাংলার মানুষ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি এবং রেশন দুর্নীতির পর এই ‘বন্যাত্রাণ কেলেঙ্কারি’ শাসক দলের জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।