সোনার মোহ ত্যাগ করে কি এবার রুপোর দিকেই ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা? কেন ২.৪১ লক্ষ ছাড়াল দাম?

বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বছরের শেষে এক অভূতপূর্ব খবর নিয়ে এল গয়না বাজার। মঙ্গলবার দিল্লির বুলিয়ন মার্কেটে রুপোর দামে এক ঐতিহাসিক উত্থান লক্ষ্য করা গেল। অল ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি রুপোর দাম ১,০০০ টাকা বেড়ে ২.৪১ লক্ষ টাকার সর্বকালীন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, রুপোর এই ‘বুল রান’-এর মধ্যেও পরপর দ্বিতীয় দিন মুখ থুবড়ে পড়ল সোনার বাজার।

২.৪১ লক্ষের জাদুকরী সংখ্যা বিশ্ববাজারে জোরালো সংকেত এবং ক্রমবর্ধমান শিল্প চাহিদার (Industrial Demand) ওপর ভর করে রুপোর এই দৌড় অব্যাহত। বিশেষ করে সোলার প্যানেল, ইলেকট্রনিক্স এবং ডেটা সেন্টার পরিকাঠামোয় রুপোর ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় এর সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দামে। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জেও (MCX) রুপোর ফিউচার প্রাইস ২.৩৪ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

সোনায় মন্দা: স্বস্তি না কি উদ্বেগ? যেখানে রুপো প্রতিদিন নতুন রেকর্ড গড়ছে, সেখানে সোনা গত দু’দিনে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা হতাশ করেছে। মঙ্গলবার দিল্লিতে ৯৯.৯ শতাংশ বিশুদ্ধতার ১০ গ্রাম সোনার দাম ২,৮০০ টাকা কমে ১,৩৯,০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সোমবার এই দাম ছিল ১,৪১,৮০০ টাকা। অর্থাৎ মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে সোনার দাম প্রায় ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

কেন এই পরিস্থিতি? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপো বর্তমানে কেবল একটি গয়নার ধাতু নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প পণ্য হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছে। রিলায়েন্স সিকিউরিটিজের সিনিয়র অ্যানালিস্ট জিগর ত্রিবেদীর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে রুপো ৭৫.৮৫ ডলার প্রতি আউন্স অতিক্রম করায় ঘরোয়া বাজারে এই উল্ফলন। তবে সোনার ক্ষেত্রে কিছুটা সংশোধন (Correction) লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনা কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও রুপো এখন বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দের ধাতু হয়ে উঠেছে।