সামনেই পুলিশ, তাও পাত্তাই নেই! লখনউতে প্রকাশ্য দিবালোকে টব চুরির ভিডিও ঘিরে শোরগোল!

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর ১০১ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে লখনউ শহরকে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল কনে সাজে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শহর ছাড়তেই দেখা গেল এক চরম লজ্জাজনক দৃশ্য। উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের রাস্তার ধার থেকে সরকারি উদ্যোগে বসানো দামী দামী ফুলের টব যে যাঁর মতো করে তুলে নিয়ে চম্পট দিলেন! সেই ‘হাতসাফাই’-এর ভিডিও এখন সমাজমাধ্যমে ঝড়ের বেগে ভাইরাল।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ তাঁদের স্কুটার ও মোটরসাইকেল থামিয়ে সাজিয়ে রাখা রকমারি ফুলের টব তুলে নিচ্ছেন। কেউ কেউ দু’হাতে দুটি টব নিয়ে হাসিমুখে হেঁটে যাচ্ছেন, আবার কেউ তো প্লাস্টিকের ব্যাগে পুরে তিনটি করে টব নিয়ে চম্পট দিচ্ছেন। মজার বিষয় হলো, কেউ তাঁদের ভিডিও রেকর্ড করছে বুঝতে পেরেও চুরিতে বিন্দুমাত্র বিরাম ছিল না। ভিডিও গ্রাহক যখন প্রশ্ন করেন, “কেন এভাবে টব তুলে নিয়ে যাচ্ছেন?”— তাতেও বিন্দুমাত্র হেলদোল দেখা যায়নি শহরবাসীর একাংশের।
সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো, ভিডিওতে দেখা গিয়েছে কাছেই একজন পুলিশকর্মী দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তিনি এই লুটপাট থামাতে কোনো সক্রিয় ভূমিকা নেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি শেয়ার করে এক সাংবাদিক ব্যঙ্গাত্মক সুরে লিখেছেন, “মোদীজি লখনউ ছাড়তেই লখনউবাসীরা টব চুরি শুরু করে দিয়েছেন।”
এই ঘটনা দেখে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নেটিজেনরা। কেউ লিখেছেন, “সরকারি সম্পত্তিকে মানুষ যখন ব্যক্তিগত মনে করে, তখন নাগরিক সচেতনতা বলে কিছু থাকে না।” আবার কেউ কটাক্ষ করে বলেছেন, “লখনউয়ের মানুষ তো এমন ছিলেন না, তবে কি এখন আইনশৃঙ্খলা ও নীতিবোধ সব বিসর্জন দেওয়া হয়েছে?” রাস্তার ধারের ডাস্টবিন থেকে বাতিস্তম্ভের আলো— সাধারণ মানুষের এমন চুরির প্রবণতা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এখন দেখার, ভিডিও দেখে দোষীদের শনাক্ত করে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না।