সুপ্রিম কোর্টেও মিলল না স্বস্তি! স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে রাজগঞ্জের বিডিও-র বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের মামলায় আরও বড় বিপাকে পড়লেন জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। কলকাতা হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আত্মসমর্পণ না করায়, এবার তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (Arrest Warrant) জারি করল বিধাননগর আদালত। বিধাননগর পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ অক্টোবর, যখন যাত্রাগাছি এলাকা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে বিধাননগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়, যেখানে নাম জড়িয়ে যায় সরকারি পদাধিকারী প্রশান্ত বর্মণের। এই খুনের ঘটনায় ইতিপূর্বেই রাজু ঢালি, তুফান থাপা এবং কোচবিহারের তৃণমূল নেতা সজল সরকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বয়ান ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই বিডিও প্রশান্ত বর্মণের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চায় পুলিশ।

গত ২২ ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, প্রশান্ত বর্মণকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিধাননগর আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তবে আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও তিনি আত্মসমর্পণ না করে রক্ষাকবচের আশায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বিধাননগর আদালতকে এই বিষয়ে কোনও তথ্য দেননি। আইনের এই অবমাননা দেখেই বিধাননগর পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন জানায়, যা আদালত মঞ্জুর করেছে।

যদিও বিডিও প্রশান্ত বর্মণ শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র এবং তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়েও তিনি মুখ খুলতে চাননি। তবে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তাঁর গ্রেফতারি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বর্তমানে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ এই মামলার জাল গুটিয়ে আনতে তৎপর হয়েছে।