“নাম বদলালেই কি গান্ধীজীকে মোছা যায়?” মনরেগা বিতর্কে মোদী সরকারকে কড়া জবাব সালমান খুরশিদের!

মনরেগা প্রকল্পের নাম পরিবর্তন এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে সরব হলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা ও আইনজীবী সালমান খুরশিদ। শনিবার শ্রীনগরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, প্রকল্পের নাম বদল করে আসলে মানুষের আবেগে আঘাত করছে বিজেপি।

“মহাত্মা গান্ধী প্রতিটি ভারতীয়ের হৃদয়ে বাস করেন” প্রকল্পের নাম থেকে গান্ধীজীর নাম সরিয়ে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে খুরশিদ বলেন:

“২০ বছর পর মনরেগায় এই পরিবর্তন এনে কী লাভ হবে? মহাত্মা গান্ধীর নাম এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল কারণ এটি তাঁর গ্রাম স্বরাজ ও গ্রামীণ ক্ষমতায়নের ভাবনার ফসল। বিজেপি নাম মুছে দিতে চাইলেও পারবে না, কারণ গান্ধীজী প্রতিটি ভারতীয়ের হৃদয়ে আছেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, ১২ কোটি শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহের এই সফল প্রকল্পটিকে বিজেপি এখন স্রেফ একটি ‘দাতব্য প্রতিষ্ঠান’ বা চ্যারিটিতে পরিণত করেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত।

তদন্তকারী সংস্থা নিয়ে তোপ: ‘ন্যাশনাল হেরাল্ড’ প্রসঙ্গ সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলেন সালমান খুরশিদ। তিনি বলেন:

গত ১২ বছর ধরে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা নিয়ে রাহুল গান্ধীকে অকারণে হয়রানি করা হচ্ছে।

ইডি ও সিবিআই-কে ব্যবহার করে কংগ্রেস নেতাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।

তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ইডি-র পেশ করা চার্জশিট আদালত একাধিকবার খারিজ করেছে এবং ২০১৪ সালে সিবিআই নিজেও এই মামলায় এফআইআর করতে অস্বীকার করেছিল।

লড়াই জারি রাখার হুঁশিয়ারি খুরশিদের দাবি, যখনই বিজেপির কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনা থাকে না, তখনই তারা বিরোধীদের দমনে সিবিআই-ইডি লেলিয়ে দেয়। নিম্ন আদালত অনেক ক্ষেত্রে এই মামলাগুলো শুনতে অস্বীকার করায় বিজেপি বড়সড় অস্বস্তিতে পড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে কোনো ভয় দেখিয়ে কংগ্রেসকে দমানো যাবে না এবং আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই জারি থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।