মোদীকে দেখতে আসার পথে নিভে গেল ৩ প্রাণ! মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত ৩ বিজেপি কর্মীকে শ্রদ্ধা জানাতে হাসপাতালে শুভেন্দু।

প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে যখন উৎসবের মেজাজ তাহেরপুরে, তখনই নেমে এল গভীর শোকের কালো ছায়া। শনিবার সকালে নদীয়ার তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় যোগ দিতে আসার পথে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মুর্শিদাবাদের তিন সক্রিয় বিজেপি সমর্থক। মৃতদের নাম রামপ্রসাদ ঘোষ, মুক্তিপদ সূত্রধর এবং গোপীনাথ দাস।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস: অধরাই থেকে গেল মোদী-দর্শন দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনার প্রবল উৎসাহ নিয়ে এদিন ভোরেই মুর্শিদাবাদ থেকে রওনা দিয়েছিলেন একদল বিজেপি কর্মী। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ট্রেনের ধাক্কায় বা লাইনচ্যুত হয়ে (তদন্তসাপেক্ষ) মৃত্যু হয় এই তিনজনের। তাঁদের নিথর দেহ শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

হাসপাতালে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শুভেন্দুর দুর্ঘটনার খবর পেয়েই সমস্ত কর্মসূচি ফেলে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ছুটে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে মৃত দলীয় কর্মীদের পার্থিব শরীরে মাল্যদান করে শেষ শ্রদ্ধা জানান তিনি। মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শুভেন্দু।

পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে তিনি লেখেন:

“নদিয়ার তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যোগ দিতে আসার পথে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত তিন বিজেপি পরিবারের সদস্যের পার্থিব শরীরে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানালাম। এই কঠিন পরিস্থিতিতে মৃতদের পরিবারের পাশে থেকে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি।”

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ও রাজনৈতিক মহলে শোক রেল দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন। তবে এই ঘটনার পর রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত কর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের পরিবারকে কোনোভাবেই একা ছেড়ে দেবে না দল; আর্থিক ও আইনি—সব ধরণের সাহায্যই করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভার ঠিক আগেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ বিজেপির অন্দরে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বিদেহী আত্মাদের শান্তি কামনায় জেলাজুড়ে নীরবতা পালন করছেন দলীয় কর্মীরা।