বাংলাদেশে যুবককে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার প্রতিবাদে এবার ‘বিস্ফোরক’ শশী তারুর, কি বললেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা?

বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ভারত-বিরোধী মনোভাব এবং হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমাগত হামলার ঘটনায় এবার তীব্র প্রতিবাদ জানালেন কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ শশী তারুর। ময়মনসিংহে ২৭ বছরের যুবক দীপুচন্দ্র দাসকে বেঁধে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার পৈশাচিক ঘটনার নিন্দায় সরব হলেন তিনি। যেখানে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও এই বিষয়ে মৌনতা বজায় রেখেছে, সেখানে তারুরের এই ‘বিদ্রোহী’ অবস্থান রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

“অসহনীয় ও মর্মান্তিক”: ক্ষোভ উগরে দিলেন তারুর শনিবার এক বিবৃতিতে শশী তারুর ময়মনসিংহের গণপিটুনি ও খুনের ঘটনাকে ‘অসহনীয় দুঃখজনক’ বলে আখ্যা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো সভ্য দেশে উন্মত্ত জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। তারুরের কথায়, “ক্ষিপ্ত জনতা দেশ শাসন করবে, তা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশে এখন যা চলছে, তা কোনোভাবেই গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়।”

ইউনূস সরকারকে কড়া প্রশ্ন বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করে শান্তি রক্ষার আর্জি জানিয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন:

“শুধু নিন্দা জানানোই যথেষ্ট নয়। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এই ধরনের বর্বরোচিত ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য প্রশাসন আদতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? শান্তি বজায় রাখা দুই দেশের সম্পর্কের জন্যই অত্যন্ত জরুরি।”

ভারতের অবস্থান ও উদ্বেগ সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রসঙ্গ টেনে তারুর মনে করিয়ে দেন যে, ভারত প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সর্বদা সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। কিন্তু যেভাবে সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে বা পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, তা দুই দেশের পক্ষেই মঙ্গলজনক নয়। অবিলম্বে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রকৃত শাসন কায়েম করার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসের ওপর হওয়া এই পাশবিক হামলা আন্তর্জাতিক স্তরেও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ভারতের কূটনৈতিক মহল এখন তাকিয়ে আছে, তারুরের এই বার্তার পর বাংলাদেশ সরকার কী পদক্ষেপ নেয় তার দিকে।