ফিরহাদ নন, কেন ‘ববি’ নামেই ভোট চেয়েছিলেন মেয়র? জানুন রাজ্যের দাপুটে মন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা।

তিনি কলকাতার প্রথম নাগরিক, আবার রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীও। কলকাতার অলিগলি থেকে শুরু করে রাজনীতির আঙিনা— সর্বত্রই তিনি পরিচিত ‘ববি’ নামে। যদিও খাতায়-কলমে তাঁর নাম ফিরহাদ হাকিম। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার ববি সিম্পসনের নামে তাঁর এই ডাকনাম। তবে জানেন কি, রাজনীতির ময়দানে দাপিয়ে বেড়ানো এই মানুষটির শিক্ষাগত যোগ্যতা কতদূর? তাঁর পেশাগত জীবনের শুরুটাই বা কোথায়?

দেওয়ালে নাম বদল ও রাজনৈতিক উত্থান ফিরহাদ হাকিম নিজেই একবার স্মৃতিচারণা করে জানিয়েছিলেন, যখন তিনি প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন, দেওয়ালে ‘ফিরহাদ হাকিম’ নাম দেখে অনেকেই চিনতে পারেননি। তড়িঘড়ি তিনি নির্দেশ দেন নামের পাশে ‘ববি’ লিখতে। সেই থেকেই ‘ববি হাকিম’ নামটাই আমজনতার কাছে বেশি আপন হয়ে ওঠে। তাঁর ঠাকুরদা বিহারের গয়া থেকে ব্যবসার সূত্রে কলকাতায় এসেছিলেন, সেই থেকে এই শহরই তাঁদের ঠিকানা।

কতটা পড়াশোনা করেছেন ববি হাকিম? ১৯৫৯ সালে জন্ম নেওয়া ফিরহাদ হাকিম কলকাতার নামী স্কুল ‘কালীঘাট হাইস্কুল’-এর ছাত্র ছিলেন। ১৯৭৬ সালে সেখান থেকেই উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন তিনি। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা হেরম্বচন্দ্র কলেজে (সাউথ সিটি কলেজ)। সেখান থেকেই ১৯৭৯ সালে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক বা বি.কম (B.Com) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। কলেজ জীবনেই ছাত্র রাজনীতির হাত ধরে তাঁর উত্তরণ শুরু।

কাউন্সিলর থেকে মেয়র: এক দীর্ঘ যাত্রা নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে প্রথমবার কাউন্সিলর হয়ে কলকাতা পৌরনিগমে পা রাখেন তিনি। এরপর ২০০৯ সালে আলিপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে জিতে প্রথমবার বিধায়ক হওয়া। ২০১১ সাল থেকে তিনি কলকাতা পোর্ট বিধানসভার অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা। ২০১৮ সাল থেকে সামলাচ্ছেন কলকাতার মেয়রের দায়িত্ব।

ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার রাজনীতির বাইরে ফিরহাদ হাকিম একজন স্নেহশীল বাবা ও দাদু। তাঁর তিন মেয়েই আজ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। বড় মেয়ে প্রিয়দর্শিনী ব্যবসায়ী, মেজো মেয়ে সাবা পেশায় চিকিৎসক এবং ছোট মেয়ে আফশা আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। নাতনির সঙ্গে মেয়রের নাচের ভিডিও একসময় সামাজিক মাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়েছিল। মন্ত্রিত্ব আর পুরসভার কাজের মাঝেও চেতলা অগ্রণীর দুর্গাপুজোয় আজও তাঁকে দেখা যায় চেনা মেজাজে।