ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে নৃশংসতা! রাজপথে দীপু চন্দ্র দাসের দেহ জ্বালিয়ে দিল ভিড়, বাংলাদেশে হিন্দু নিধনের নতুন অধ্যায়?

একবিংশ শতাব্দীতেও যে এমন নৃশংসতা সম্ভব, তা প্রমাণ করল বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকা। ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা উত্তেজনার মধ্যেই বলি হলেন দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবক। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা নাগাদ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় যা ঘটল, তা বর্ণনা করার ভাষা হারিয়েছে সভ্য সমাজ।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে? প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ‘ধর্ম অবমাননা’র ভুয়ো অভিযোগ তুলে তাঁকে ঘিরে ধরে একদল উন্মত্ত জনতা। প্রশাসনের কোনো পরোয়া না করেই প্রকাশ্য রাস্তায় তাঁকে পেটাতে শুরু করে তারা। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে দীপু নিস্তেজ হয়ে পড়লে সেখানেই থেমে থাকেনি আক্রমণকারীরা। এরপর তাঁর মৃতদেহে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পাশবিক উল্লাসে মেতে ওঠে মৌলবাদীরা।
আতঙ্কে সিঁটিয়ে সংখ্যালঘুরা: এই নারকীয় ঘটনার পর থেকেই ময়মনসিংহের হিন্দু পরিবারগুলো ঘর থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন।
এপার বাংলায় উদ্বেগ: এদেশের পশ্চিমবঙ্গে বা ভারতের অন্যান্য রাজ্যে যাঁদের আত্মীয়রা ওপার বাংলায় থাকেন, তাঁরা এখন গভীর উদ্বেগে। ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসা কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে বাতাস।
নিরাপত্তার অভাব: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বারবার সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হলেও, প্রশাসনের তরফে কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলেই মৌলবাদীদের সাহস বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।
মানবাধিকার নিয়ে বড় প্রশ্ন: ওসমান হাদির প্রয়াণের শোককে হাতিয়ার করে যেভাবে সাধারণ হিন্দুদের নিশানা করা হচ্ছে, তা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই প্রকট করে তুলেছে। যদিও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘটনার নিন্দা করেছেন, কিন্তু বাস্তবে সংখ্যালঘুদের প্রাণের নিরাপত্তা যে তলানিতে, দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।
বাংলাদেশে কি সত্যিই শান্তি ফিরবে, নাকি এভাবেই বারবার সংখ্যালঘুদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হবে? এখন এই প্রশ্নই বিঁধছে বিশ্ববিবেকের কাছে।