হাদি খুনের পর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ! ময়মনসিংহে হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা, কড়া নিন্দা জানিয়ে কড়া বার্তা প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের!

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাজপথে আততায়ীর গুলিতে আহত হয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান হাদি। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে এক সপ্তাহের লড়াই শেষে গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) তাঁর মৃত্যু সংবাদ আসতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। কিন্তু সেই প্রতিবাদের মাঝেই ফিরে এল হিংসার নগ্ন রূপ— ময়মনসিংহে এক হিন্দু সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় স্তম্ভিত আন্তর্জাতিক মহল।
ময়মনসিংহের নৃশংসতা ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া: হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে যে উত্তেজনা শুরু হয়, তার শিকার হন ময়মনসিংহের এক হিন্দু ব্যক্তি। অভিযোগ, তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করার পর দেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এই পৈশাচিক ঘটনার ভিডিও এবং খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুক্রবার বিকেলে কড়া বিবৃতি জারি করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন:
“ময়মনসিংহে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা আমরা গভীরভাবে নিন্দা করছি। নতুন বাংলাদেশে এই ধরনের নৃশংসতা ও হিংসার কোনও স্থান নেই। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
হাদির মৃত্যু ও দেশজুড়ে অশান্তি: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘শহিদ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। শনিবার তাঁর সম্মানে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালিত হবে। তবে হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকার ‘প্রথম আলো’ ও ‘ডেইলি স্টার’-এর অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, হাদির খুনিরা প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে গিয়েছে, যা নিয়ে কূটনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।
সংখ্যালঘুদের উদ্বেগ ও নিরাপত্তা: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ওপার বাংলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ বারবার উঠেছে। শুক্রবারের এই নতুন ঘটনা প্রমাণ করছে যে, দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক। সরকার ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে হিন্দুদের প্রাণের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন থেকেই যাচ্ছে।