চাকরি তো গেলই, এবার কি জেলের ঘানি টানবেন পাহাড়ের প্রভাবশালীরা? কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবিতে উত্তাল দার্জিলিং!

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ৩১৩ জন স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিলের পর থেকেই পাহাড়ের রাজনীতিতে পারদ চড়ছে। এবার মামলাকারী সংগঠনের তরফে দাবি তোলা হয়েছে যে, কেবল বরখাস্ত নয়, নিয়োগ হওয়ার দিন থেকে আজ পর্যন্ত যত টাকা তাঁরা বেতন হিসেবে নিয়েছেন, সেই সমস্ত অর্থ সুদ-সহ সরকারকে ফেরত দিতে হবে।
মামলাকারীদের কড়া অবস্থান: শুক্রবার শিলিগুড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে ‘ট্রেন্ড আনএমপ্লয়েড ইয়ুথ ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন’-এর সভাপতি সুধন গুরুং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন:
কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি: এই দুর্নীতির শেকড় অনেক গভীরে। সিআইডি-র ওপর ভরসা নেই, তাই নিরপেক্ষ কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করিয়ে দোষী নেতা ও আধিকারিকদের গ্রেফতার করতে হবে।
বেতন ফেরত: যাঁরা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের সমস্ত বেতন সুদ-সহ ফেরত দেওয়ার জন্য তাঁরা আদালতের কাছে আবেদন জানাবেন।
বঞ্চিতদের হাহাকার: বিএড, ডিএলএড করেও যোগ্য প্রার্থীরা পাহাড়ের রাস্তায় বসে আছেন, আর রাজনৈতিক প্রভাবে এই নিয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁদের।
মানবিক পাশে এবিটিএ, নিশানায় সরকার: নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতি (ABTA) চাকরিহারাদের প্রতি মানবিক সহানুভূতি প্রকাশ করলেও দুর্নীতির প্রশ্নে সুর চড়িয়েছে। জেলা সম্পাদক বিদ্যুৎ রাজগুরুর দাবি, এই দুর্নীতির উৎস খোদ নবান্ন। রিজিওনাল এসএসসি লাগু না করে কেন বেআইনিভাবে নিয়োগ করা হল, তার জন্য রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করেছেন তিনি।
পাহাড়ে আন্দোলনের আগুন: হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এই রায়ের প্রতিবাদে পাহাড়ের স্কুলগুলোতে পঠনপাঠন বন্ধ রেখে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। ঘুম স্টেশন থেকে দার্জিলিং স্টেশন পর্যন্ত মিছিল ও গোর্খা ভবনে বৈঠক করে আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।
অনিত থাপার পরবর্তী চাল: জিটিএ-এর চিফ এগজিকিউটিভ অনিত থাপা এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার কথা ভাবছেন। তবে পাহাড়ের বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যেই এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে অনিত থাপা ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে।
১৯৯৯ থেকে ২০১৪— বাম ও বর্তমান জমানার এই দীর্ঘস্থায়ী ‘নিয়োগ জট’ এখন পাহাড়ের সাধারণ মানুষের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।