দিল্লিতে দূষণ দমনে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার গাড়ির চালান, ধুলো ঝাড়তে নামল অ্যান্টি-স্মগ গান!

শীতের মরশুমে দিল্লির আকাশ ঢেকেছে বিষাক্ত ধোঁয়াশায়। এই পরিস্থিতিতে দূষণ কমাতে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিল দিল্লি সরকার। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনকারী এবং দূষণ ছড়ানো যানবাহনের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালিয়ে মোট ১১,৭৭৬টি চালান জারি করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। দিল্লি প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাতাসের গুণমান উন্নত করতে কোনো রকম আপস করা হবে না।
পরিবেশ মন্ত্রীর কড়া বার্তা: দিল্লির পরিবেশ মন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা জানিয়েছেন, সরকার কেবল সাময়িক পদক্ষেপে বিশ্বাসী নয়। দূষণ রোধে একগুচ্ছ দীর্ঘমেয়াদী এবং বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এই সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই গত বছরের তুলনায় এবার বায়ু মানের সূচকে (AQI) কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সাফাই অভিযান: কেবল চালানের পাহাড় নয়, শহরকে ধুলোমুক্ত করতেও রেকর্ড কাজ করেছে পুরসভাগুলি:
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: গত ২৪ ঘণ্টায় শহর থেকে ১২,১৬৪ মেট্রিক টন আবর্জনা সরানো হয়েছে।
ধুলো নিয়ন্ত্রণ: ২ হাজার কিলোমিটারের বেশি রাস্তা যান্ত্রিকভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে। রাস্তায় ধুলো ওড়া রুখতে ১,৮৩০ কিলোমিটার রাস্তায় জল ছেটানো হয়েছে।
অ্যান্টি-স্মগ গান: শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলিতে ধুলো মারতে ৫,৫২৮ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে চালানো হয়েছে অ্যান্টি-স্মগ গান। এমনকি বড় নির্মাণ প্রকল্পগুলিতে ১৬০টি মেশিন বসানো হয়েছে।
ট্রাক ও যানজট নিয়ন্ত্রণ: শহরের সীমান্তে কড়া পাহারা বসিয়ে ৫৪২টি ট্রাককে ভুল রুটে ঢোকার দায়ে দিল্লি থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সাথে শহরের ৩৪টি প্রধান যানজট পয়েন্টে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করে যান চলাচল সচল রাখা হয়েছে, যাতে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির ধোঁয়া বাতাসকে আরও বিষাক্ত না করে।
জনসাধারণের কাছে আবেদন: মন্ত্রী সিরসা জানিয়েছেন, “গ্রিন দিল্লি অ্যাপ” এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আসা অভিযোগগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, “দূষণের বিরুদ্ধে এই লড়াই কেবল সরকারের নয়। পরিষ্কার বাতাসের অধিকার পেতে গেলে সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।”