এবার ভারতের বুকে ইপিএল মডেল! ১০ কোটির অফার দিয়ে আইএসএল নিজেদের হাতে নিতে চায় ক্লাব জোট, ব্রাত্য ইস্টবেঙ্গল?

ভারতীয় ফুটবল লিগের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন বাঁক। আইএসএল (ISL) পরিচালনার ভার সরাসরি নিজেদের হাতে নিতে চায় ক্লাবগুলো। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ‘ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ’ (EPL)-এর ধাঁচে ভারতের শীর্ষ লিগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পূর্ণাঙ্গ নীল নকশা এআইএফএফ (AIFF) এবং কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের কাছে জমা দিল ১২টি ক্লাবের জোট। যদিও এই তালিকায় আশ্চর্যজনকভাবে নাম নেই ইস্টবেঙ্গল এফসি-র।

কী আছে ক্লাব জোটের প্রস্তাবে? মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের সিইও বিনয় চোপড়ার নেতৃত্বে পাঠানো এই চিঠিতে মূলত ৫টি বড় দাবি রাখা হয়েছে:

মালিকানা ক্লাবগুলোর হাতে: লিগের বাণিজ্যিক এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে ক্লাব জোটের কাছেই। ফেডারেশন কেবল নিয়ন্ত্রক (Regulator) হিসেবে রেফারি নিয়োগ, লাইসেন্সিং ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব সামলাবে।

ফেডারেশনকে বার্ষিক ১০ কোটি: ২০২৬-২৭ মরশুম থেকে প্রতি বছর ফেডারেশনকে ১০ কোটি টাকা করে দেবে ক্লাবগুলো। এই অর্থ রেফারি প্রশিক্ষণ ও তৃণমূল স্তরের ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় হবে।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি: লিগের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে অন্তত ১০ বছরের চুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

** রাইটস ও শেয়ার:** লিগের শেয়ার কাঠামোতে ফেডারেশনের অংশীদারিত্ব থাকলেও আসল নিয়ন্ত্রণ থাকবে ক্লাবগুলোর হাতেই।

৪৫ দিনের মধ্যেই লিগ শুরুর টার্গেট: যদি ফেডারেশন এবং ক্রীড়ামন্ত্রক এই প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দেয়, তবে ক্লাব জোট প্রস্তুত রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাইটস হাতে পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যেই লিগ শুরু করা সম্ভব। এমনকি সব ঠিক থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে মাঠে বল গড়ানোর সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে।

ইস্টবেঙ্গলের অনুপস্থিতি ও শনিবারের বৈঠক: ইস্টবেঙ্গল বাদে বাকি ১১টি বড় ক্লাব এই প্রস্তাবে সই করেছে। লাল-হলুদ শিবিরের এই দূরত্ব ফুটবল মহলে নানা গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। আগামী শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM)। সেখানেই নির্ধারিত হবে আইএসএল কি সত্যিই ‘ক্লাব ওনারশিপ’ মডেলে হাঁটবে নাকি আগের মতোই টালবাহানা চলবে।

ভারতের ফুটবল ইতিহাসে ক্লাবগুলোর এই একজোট হওয়া এক নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, শনিবারের বৈঠকে কল্যাণ চৌবের নেতৃত্বাধীন ফেডারেশন এই ‘ইপিএল মডেল’-এ সায় দেয় কি না।