‘লাইসেন্স থাকলেই ড্রাইভার হওয়া যায় না’, নিয়োগ মামলায় বড় পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের! ভেস্তে গেল হাইকোর্টের নির্দেশ!

ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা মানেই কেউ দক্ষ চালক নন— তেলেঙ্গানা পুলিশে ড্রাইভার নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে এমনটাই জানাল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানউল্লাহ এবং এসভিএন ভাট্টির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিশেষ করে পুলিশ অভিযান বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য কেবল নথিপত্র নয়, চালকের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ও নিয়মিত অনুশীলন থাকা বাধ্যতামূলক।

হাইকোর্টের রায় বাতিল ও সুপ্রিম পর্যবেক্ষণ: তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট আগে নির্দেশ দিয়েছিল যে, মোটরযান আইনের সংশোধনী অনুযায়ী যাদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগে বা পরে নবায়ন (Renew) হয়েছে, তাদেরও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে জানিয়েছে:

অনুশীলনের অভাব ঝুঁকি: যদি কেউ দীর্ঘ সময় গাড়ি না চালান, তবে তাঁর দক্ষতা কমে যায়। পুলিশ বা অগ্নিনির্বাপণ পরিষেবার মতো সংবেদনশীল কাজে সামান্য ভুলও প্রাণঘাতী হতে পারে।

যোগ্যতা বনাম অভিজ্ঞতা: লাইসেন্স পাওয়া একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, কিন্তু নিয়মিত অনুশীলনই একজন চালককে যোগ্য করে তোলে।

মামলার প্রেক্ষাপট: ২০২২ সালে তেলেঙ্গানা পুলিশ নিয়োগ বোর্ড (TSLPRB) ৩২৫টি ড্রাইভার পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। সেখানে শর্ত ছিল:

আবেদনকারীর কাছে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে।

বিজ্ঞপ্তির তারিখ থেকে অন্তত টানা দুই বছর লাইসেন্সটি সক্রিয় থাকতে হবে।

যেসব প্রার্থীর লাইসেন্স মাঝে নিষ্ক্রিয় ছিল বা টানা দুই বছরের অভিজ্ঞতা ছিল না, তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করেছিল বোর্ড। হাইকোর্ট তাঁদের পক্ষ নিলেও সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত নিয়োগ বোর্ডের কঠোর নিয়মকেই বহাল রাখল।

আগামী ৩ মাসের মধ্যে নিয়োগ শেষ করার নির্দেশ: শীর্ষ আদালত তেলেঙ্গানা সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে, এই ৩২৫টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া আগামী ৩ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ এখন থেকে ভারতের যেকোনো সরকারি চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘গাইডলাইন’ বা নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।