রেল স্টেশনের দেওয়ালে এবার শান্তিপুরের তাঁত! নদিয়ার ১০১টি স্টেশনের ভোল বদলাচ্ছে ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পে!

রেলের যাত্রীদের জন্য সুখবর! দেশের রেল পরিকাঠামো বদলে দিতে কেন্দ্রের নেওয়া ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের ঢেউ এবার আছড়ে পড়ল নদিয়া জেলায়। জেলার অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন রানাঘাট থেকে শুরু করে শান্তিপুর, কৃষ্ণনগর— সবকটি স্টেশনেরই খোলনলচে বদলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তবে সবথেকে বড় চমক থাকছে শান্তিপুর স্টেশনে, যেখানে আধুনিকতার সঙ্গে মিশে যাবে জেলার প্রাচীন ঐতিহ্য।

তাঁত শিল্পের নকশায় সাজবে শান্তিপুর: শান্তিপুরের নাম বললেই মাথায় আসে সূক্ষ্ম ও কারুকার্যমণ্ডিত তাঁত শিল্পের কথা। রেল মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শান্তিপুর স্টেশনের নতুন নকশা ও সাজসজ্জায় এই তাঁত শিল্পকেই প্রধান্য দেওয়া হবে। প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে এই স্টেশনে এমনভাবে নকশা করা হবে যাতে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে শান্তিপুরের কৃষ্টি ফুটে ওঠে।

কোথায় কত খরচ? কোন স্টেশনে কী বদল?

রানাঘাট স্টেশন: জেলায় সবথেকে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে রানাঘাট। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এটিকে একটি ‘আধুনিক মডেল স্টেশন’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

অন্যান্য স্টেশন: শান্তিপুর ছাড়াও কৃষ্ণনগর সিটি জংশন, কল্যাণী, কল্যাণী ঘোষপাড়া, বেথুয়াডহরি এবং গেদে স্টেশনেও আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হয়েছে।

ইতিমধ্যেই তৈরি: কল্যাণী ঘোষপাড়া স্টেশনের আধুনিকীকরণের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

স্টেশনে কী কী নতুন সুবিধা পাবেন যাত্রীরা? রেল সূত্রে খবর, স্টেশনগুলিতে এখন থেকে মিলবে বিদেশের মতো পরিষেবা:

ঝকঝকে মার্বেল বসানো প্ল্যাটফর্ম ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) প্রতীক্ষালয়।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং বড় আধুনিক ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড।

ওঠা-নামার সুবিধার জন্য চলমান সিঁড়ি বা এসকেলেটর।

স্থানীয় পণ্য বিক্রির জন্য ‘এক স্টেশন এক পণ্য’ (One Station One Product) বিপণি।

যাত্রীদের দাবি: রেলের এই উদ্যোগে খুশির হাওয়া থাকলেও, কল্যাণী স্টেশনের নিত্যযাত্রীদের দাবি— ওই স্টেশনে ভিড় সামলাতে সবার আগে চলমান সিঁড়ির ব্যবস্থা করা হোক। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, কাজ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই নদিয়ার এই স্টেশনগুলি নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করবে।