ভোটের কাজে শিক্ষকদের টানা নিয়ে বেনজির সংঘাত! ব্রাত্যের নিশানায় কমিশন, প্রশ্নের মুখে মাধ্যমিক পরীক্ষা?

ভোটার তালিকায় বিশেষ পরিমার্জন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের সংঘাত এবার চরম আকার নিল। সংঘাতের মূলে রয়েছে শিক্ষকদের বিএলও (BLO) বা বুথ লেভেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ। এই ইস্যুতে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচারী’ ও ‘তানাশাহী’র অভিযোগ তুললেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।বিস্ফোরক শিক্ষামন্ত্রী:ব্রাত্য বসুর অভিযোগ, শিক্ষা দফতর বা রাজ্য সরকারকে অন্ধকারে রেখেই শিক্ষকদের ভোটের কাজে যুক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন—”রাজ্যকে পাশ কাটিয়ে এভাবে কাজ করা আসলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মানসিকতা। এটা তানাশাহী ছাড়া আর কিছু নয়। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের বেতন ও পেনশন সুরক্ষিত বলেই কি এভাবে তাঁদের ওপর খবরদারি চালানো হচ্ছে?”মাধ্যমিক পরীক্ষার ওপর মেঘ:সংঘাতের আঁচ পৌঁছেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পর্যন্ত। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। পর্ষদ সূত্রে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে প্রায় ১ লক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর প্রয়োজন। কিন্তু শিক্ষকরা যদি কমিশনের কাজে ব্যস্ত থাকেন, তবে পরীক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।সংঘাতের মূল পয়েন্টগুলি একনজরে:পক্ষদাবি ও অবস্থানশিক্ষা দফতররাজ্যকে না জানিয়ে শিক্ষকদের নিয়োগ করা হয়েছে; মাধ্যমিক পরীক্ষায় ব্যাঘাত ঘটবে।মধ্যশিক্ষা পর্ষদপরীক্ষার কাজে যুক্ত শিক্ষকদের ভোটের কাজ থেকে অবিলম্বে অব্যাহতি দেওয়া হোক।নির্বাচন কমিশন (CEO)নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট স্তর (ERO) মেনেই হয়েছে এবং শিক্ষা দফতরকে জানিয়েই করা হয়েছে।পরিসংখ্যান কী বলছে?এবার রাজ্যে মোট পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ২৬৮২টি। এই বিপুল যজ্ঞ সামলাতে প্রয়োজন ভেন্যু সুপারভাইজার, ইনচার্জ ও পরিদর্শক। পর্ষদের দাবি, এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে এসআইআর প্রক্রিয়ায় আটকে রাখলে পরীক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়বে।এখন প্রশ্ন উঠছে, বিএলও নিয়োগের এই জটিলতা কি মাধ্যমিক পরীক্ষার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলবে? নাকি শেষ মুহূর্তে নমনীয় হবে কমিশন? প্রশাসনিক এই দড়িটানাটানির মাঝে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।