দিল্লির স্কুলে এবার ‘বিশুদ্ধ বাতাস’! পড়ুয়াদের ফুসফুস বাঁচাতে ১০ হাজার ক্লাসরুমে এয়ার পিউরিফায়ার বসাচ্ছে সরকার

প্রতি বছরের মতো এবারও শীতের শুরু থেকেই দিল্লির বাতাস হয়ে উঠেছে বিষাক্ত। ধোঁয়াশা আর দূষণে নাভিশ্বাস উঠছে দিল্লিবাসীর। এই দমবন্ধকর পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে এবার বড় ঘোষণা করলেন দিল্লির শিক্ষামন্ত্রী আশিস সুদ। তিনি জানিয়েছেন, দিল্লির প্রতিটি সরকারি স্কুলের ক্লাসরুমে ধাপে ধাপে এয়ার পিউরিফায়ার বসানো হবে।

প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার ক্লাসরুম: শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার ক্লাসরুমে এয়ার পিউরিফায়ার বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর জন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার ডাকা হয়েছে। আশিস সুদের কথায়, “শিশুদের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে আমরা কোনও আপস করব না। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হলেই দিল্লির সমস্ত সরকারি স্কুলের প্রতিটি ক্লাসরুমে এই যন্ত্র বসানো হবে।”

কেন এই সিদ্ধান্ত? দিল্লিতে বর্তমানে ‘ভেরি পুওর’ (খুব খারাপ) এবং ‘সিভিয়ার’ (ভয়াবহ) ক্যাটাগরিতে রয়েছে বাতাসের মান। বায়ুদূষণের ফলে শিশুদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির ঝুঁকি বাড়ছে। ইতিমধেই প্রাথমিক স্কুলগুলোতে অনলাইন ক্লাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার স্কুল খুললে যাতে ক্লাসরুমের ভিতরের বাতাস বিষমুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই আধুনিক ব্যবস্থা।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: শুধুমাত্র ক্লাসরুমের সুরক্ষা নয়, সামগ্রিকভাবে দূষণ কমাতে আরও কয়েকটি বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে দিল্লি সরকার:

ভলস্বা ল্যান্ডফিল: দিল্লির দূষণের অন্যতম উৎস ভলস্বা ল্যান্ডফিল বা আবর্জনার পাহাড় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি পরিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মন্ত্রী।

নির্মাণ ও যানবাহন: দূষণ রুখতে নির্মাণকাজ এবং যানবাহনের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হচ্ছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ভারসাম্য: বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষণের জেরে স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্লাসরুমে এয়ার পিউরিফায়ার বসানো হলে পড়ুয়ারা যেমন স্কুলে ফিরতে পারবে, তেমনই তাদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও কমবে।

দিল্লির এই মডেল আগামী দিনে ভারতের অন্যান্য দূষিত শহরগুলোর জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।