মেসি-কাণ্ডে এবার শতদ্রুর ‘টাকার উৎস’ খুঁজছে পুলিশ! রিষড়ার বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির সফরকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর হয়েছে, তার দায় এড়াতে পারছেন না আয়োজক শতদ্রু দত্ত। এই ঘটনায় ইতিমধেই শতদ্রুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এবার তাঁর আয়ের উৎস এবং আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার রিষড়ার বাঙুর পার্কে শতদ্রুর পৈতৃক বাড়িতে হানা দিল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশের একটি দল।

বাড়িতে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ: এদিন মহিলা পুলিশ কর্মীসহ পাঁচজন আধিকারিকের একটি দল রিষড়া থানার পুলিশের সহযোগিতায় শতদ্রুর বাড়িতে ঢোকেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিশেষ করে মেসির এই মেগা ইভেন্ট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় কোটি কোটি টাকা কোথা থেকে এল, বিদেশি মুদ্রার লেনদেনে কোনও অসঙ্গতি আছে কি না— তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তের মূল লক্ষ্য: বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে যে দুটি এফআইআর করা হয়েছে, তার ভিত্তিতেই এই অভিযান। পুলিশের নজরে রয়েছে কয়েকটি বিষয়:

টিকিটের কালোবাজারি: অত্যধিক দামে টিকিট বিক্রি এবং সেই আয়ের হিসাব।

গ্যালারিতে অব্যবস্থা: গ্যালারিতে জলের চড়া দাম এবং পর্যাপ্ত পানীয় জলের অভাব কেন ছিল?

নিরাপত্তায় গাফিলতি: আয়োজক হিসেবে কেন ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলেন শতদ্রু?

রাজনৈতিক তোলপাড়: এই ঘটনার প্রভাব সরাসরি পড়েছে রাজ্যের প্রশাসনিক মহলেও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের শোকজ করা হয়েছে।

তদন্তকারী আধিকারিকরা শতদ্রুর বাড়ি থেকে বেশ কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, শতদ্রুকে জেরা করে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তার সঙ্গে তাঁর বাড়ির নথিপত্র মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। বিধাননগর পুলিশের এই ‘অ্যাকশন’ থেকে স্পষ্ট যে, যুবভারতী কলঙ্কের শিকড় অনেক গভীরে।