“জামাত-শিবির নিপাত যাক!” বাংলাদেশের নৃশংসতায় বিস্ফোরক দীপ্সিতা ধর, বিঁধলেন ‘ইসলামিস্ট ফ্যাসিস্ট’দের

বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশে যে চরম অরাজকতা ও সংখ্যালঘু নিধন শুরু হয়েছে, তা নিয়ে এবার কড়া ভাষায় সরব হলেন বাংলার ছাত্রনেত্রী দীপ্সিতা ধর। ওপার বাংলায় হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে গাছে বেঁধে পুড়িয়ে মারার নারকীয় ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দীপ্সিতা সরাসরি আক্রমণ করেছেন ‘ইসলামিস্ট ফ্যাসিস্ট’দের।
দীপ্সিতার বিস্ফোরক পোস্ট: নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে দীপ্সিতা লেখেন, “স্পষ্ট কথায় কষ্ট নাই! ইসলামিস্ট ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী, নাস্তিক এবং প্রগতিশীল অমৌলবাদী মানুষের বাঁচানোর ডাক, এই বাংলার ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের আশু কর্তব্য হওয়া উচিত। জামাত-শিবির নিপাত যাক।”
বিকাশ ভট্টাচার্যের পোস্ট ও বামেদের ‘দ্বন্দ্ব’: দীপ্সিতা সরাসরি ‘ইসলামিস্ট’ শব্দটি ব্যবহার করলেও, প্রবীণ বাম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর প্রতিবাদী পোস্টে শুধুমাত্র ‘মৌলবাদী’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের মধ্যেই শব্দচয়ন নিয়ে এই ভিন্নতা বামেদের অন্দরের মতানৈক্য এবং ‘সফট’ অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ।
দ্বিচারিতার অভিযোগ: দীপ্সিতার এই প্রতিবাদের পরই পালটা সরব হয়েছে সমালোচকরা। তাঁদের দাবি:
গাজা বা পাকিস্তানের সমস্যায় যারা রাজপথ কাঁপায়, তারা নিজের রাজ্যে (মুর্শিদাবাদে) হিন্দু খুনের সময় কেন নীরব থাকে?
মুর্শিদাবাদের সাম্প্রদায়িক হিংসায় মৃত চন্দন দাস ও হরগোবিন্দ দাস সিপিএম সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও কেন সেদিন বাম নেতারা ‘ইসলামিস্ট ফ্যাসিবাদ’ নিয়ে মুখ খোলেননি?
হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে আবু সাঈদের মৃত্যুতে সোচ্চার হলেও, তার পরের কয়েক মাস বাংলাদেশে হিন্দু নিধন নিয়ে কেন বামেরা নিশ্চুপ ছিল?
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়: সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, দীপ্সিতার এই হঠাৎ সোচ্চার হওয়া আসলে রাজনৈতিক জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা বা ‘সুবিধাবাদী’ রাজনীতি। যখন ওপার বাংলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে, তখন এই প্রতিবাদকে অনেকেই ‘কুমিরের কান্না’ হিসেবে অভিহিত করছেন।