“বাস্তব সংখ্যা আরও ভয়ানক!” গাজায় স্বাস্থ্য পরিষেবার চরম বিপর্যয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করলেন টেড্রোস

দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধের ক্ষত গাজার প্রতিটি কোণায়। শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) একটি ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, গাজা থেকে জরুরি চিকিৎসার জন্য বিদেশে সরানোর অপেক্ষায় থাকাকালীন অন্তত ১,০৯২ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
পরিসংখ্যানের অন্তরালে কান্না: WHO প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস জানিয়েছেন, যুদ্ধের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রসংঘ এবং তাদের সহযোগীরা ৫,৬০০ শিশুসহ মোট ১০,৬০০ জন গুরুতর অসুস্থ রোগীকে গাজা থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এই সাফল্য ম্লান হয়ে যাচ্ছে সেই সব রোগীদের কাছে, যারা সময়মতো সাহায্য না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন।
টেড্রোস সতর্ক করে বলেছেন যে, জুলাই ২০২৪ থেকে ২৮ নভেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে যে ১০৯২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, আসল সংখ্যাটি সম্ভবত এর চেয়ে অনেক বেশি। কারণ, যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় সব মৃত্যুর খবর সঠিকভাবে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
সাহায্যের আবেদন: বর্তমানে গাজার বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৬,৫০০। তবে ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’-এর মতো সংস্থাগুলোর মতে, এই সংখ্যাটি আসল প্রয়োজনের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ কম হতে পারে। টেড্রোস বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন তারা গাজার অসুস্থ রোগীদের জন্য তাদের দরজা খুলে দেন এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে চিকিৎসার সুবিধা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেন।
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও বর্তমান পরিস্থিতি: ১ ডিসেম্বরের মধ্যে মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীসহ প্রায় ৩০টি দেশ গাজা থেকে রোগী গ্রহণ করেছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া মার্কিন-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি দিলেও, ইজরায়েল ও হামাসের একে অপরের বিরুদ্ধে ক্রমাগত চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখনও এক ‘জীবন্ত নরক’-এর সমার্থক হয়ে রয়েছে।
মানবিকতার এই সংকটে আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপই এখন শেষ ভরসা।