মা জানলে ঘরেই ঢুকতে দিতেন না! সচিনের বুদ্ধিতে কুমিরের মাংস খেয়ে কী দশা হয়েছিল দাদার?

এক সময় তাঁদের ব্যাট হাতে ওপেনিং জুটির দাপটে কাঁপত বিশ্ব ক্রিকেট। ব্যক্তিগত জীবনেও সচিন ও সৌরভের বন্ধুত্বের রসায়ন যে কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়। সম্প্রতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি পুরনো সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে দুই বন্ধুর এক মজার ঘটনা আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
চিকেন ভেবে কুমির ভক্ষণ! ঘটনাটি ২০০০ সালের, কেনিয়ায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি চলাকালীন। সৌরভ তখন সদ্য ভারতের অধিনায়ক হয়েছেন। সচিন জোরাজুরি করে দাদাকে নিয়ে গিয়েছিলেন কেনিয়ার এক বিখ্যাত ‘কার্নিভোর’ রেস্তোরাঁতে। সৌরভের কথায়, “সেখানে মেনু কার্ডে কুমির থেকে শুরু করে কত কী সব নাম! আমাদের বাড়িতে কড়া নিয়ম, কোনও নিষিদ্ধ মাংস খাওয়ার অনুমতি নেই। মা জানলে বাড়ি ঢুকতে দিতেন না। তাই ভয়ে আমি শুধু চিকেন অর্ডার করি।”
সৌরভ ভেবেছিলেন নিরাপদ খাবারই খাচ্ছেন। কিন্তু খাওয়া শেষ করে বাইরে আসতেই বোমা ফাটান সচিন! হাসতে হাসতে তিনি দাদাকে জানান, চিকেন ভেবে সৌরভ আসলে যা খেয়েছেন, তা ছিল কুমিরের মাংস।
বেহালার বাড়িতে মাস্টার ব্লাস্টার: মাঠের বাইরেও এই বন্ধুত্ব অটুট। ২০১৪ সালে সৌরভের বেহালার বাড়িতে সচিনের নৈশভোজের সেই ছবি আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে। ২০২০ সালে লকডাউনের সময় সেই ছবি শেয়ার করে সচিন লিখেছিলেন, “দাদির বাড়িতে সেই মজার সন্ধ্যার কথা ভুলতে পারি না। খাবারের স্বাদ আজও জিভে লেগে আছে।” এমনকি নিজের জন্মদিনের প্রশ্নোত্তর পর্বেও সৌরভকে ভালোবেসে ‘দাদি’ বলেই সম্বোধন করেছিলেন লিটল চ্যাম্পিয়ন।
অমর জুটি: ২২ গজে সচিন-সৌরভ জুটি ওপেনিংয়ে ৮২২৭ রান করেছিলেন, যা আজও এক বিশ্বরেকর্ড। ক্যারিয়ারের শুরুতে দুজনকে নিয়ে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতার খবর ছড়িয়ে থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা প্রমাণ করেছেন যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকলে বন্ধুত্ব কতটা গভীর হতে পারে।