প্লাস্টিকের বোতলেই কেল্লাফতে! মাত্র ৬০০ টাকায় মাইক্রোস্কোপ বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগাল বসিরহাটের পড়ুয়ারা

দামী ল্যাবরেটরি বা লক্ষ লক্ষ টাকার সরঞ্জাম নয়, বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় বাধা হতে পারে না অর্থাভাব— তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের এক গ্রামীণ স্কুলের পড়ুয়ারা। ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল আর সামান্য কিছু সরঞ্জাম দিয়ে আস্ত এক ‘কার্যকর মাইক্রোস্কোপ’ বানিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছে চাঁপাপুকুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা।

কীভাবে তৈরি হলো এই আশ্চর্য যন্ত্র? বিজ্ঞানের প্রতি টান থেকেই এই অভিনব উদ্ভাবন। পড়ুয়ারা দু’টি প্লাস্টিকের জলের বোতলের মুখ কেটে তাতে সাধারণ লেন্স বসিয়ে দেয়। এরপর দু’টি বোতলকে নিখুঁতভাবে জুড়ে দিয়ে তাতে কালো রং করা হয়, যাতে বাইরের আলো পঠনপাঠনে বাধা সৃষ্টি না করতে পারে। পুরো কাঠামোটিকে একটি মজবুত কাঠের ফ্রেমের ওপর বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেখতে হুবহু বাজারের দামী মাইক্রোস্কোপের মতো হলেও, এর পেছনের কারিগরি পুরোটাই খুদে পড়ুয়াদের।

কার্যকারিতায় তাক লাগানো সাফল্য: এটি যে শুধু দেখানোর মতো কোনো খেলনা নয়, তার প্রমাণ মিলল ল্যাবেই। পড়ুয়ারা পেঁয়াজের খোসা থেকে সূক্ষ্ম আঁশ আলাদা করে এই যন্ত্রের নিচে রেখে তা পর্যবেক্ষণ করেছে। আশ্চর্যের বিষয়, বাজারের দামী মাইক্রোস্কোপের মতোই এই যন্ত্র দিয়েও উদ্ভিদ কোষের গঠন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

নামমাত্র খরচ, পরিবেশবান্ধব ভাবনা: সাধারণত একটি ভালো মানের মাইক্রোস্কোপ কিনতে কয়েক হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু চাঁপাপুকুর স্কুলের পড়ুয়াদের তৈরি এই যন্ত্রটি বানাতে খরচ হয়েছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। একদিকে বর্জ্য বা ফেলে দেওয়া বোতল ব্যবহার করে পরিবেশ রক্ষার বার্তা, অন্যদিকে সস্তায় বিজ্ঞান শিক্ষার এমন উদ্যোগ দেখে মুগ্ধ শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

বসিরহাটের এই ছোট ছোট হাতগুলো দেখিয়ে দিল, ইচ্ছে থাকলে এবং মেধা থাকলে সাধারণ ‘ফেলনা’ জিনিস থেকেও অসাধারণ আবিষ্কার সম্ভব। তাদের এই জয়যাত্রায় এখন খুশির হওয়া গোটা জেলা জুড়ে।