সৌরভের নামে কুৎসা ও মানহানি! কার ওপর চটলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক? সাইবার সেলে পৌঁছল বিস্ফোরক চিঠি।

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির সফরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ে নামলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক তথা সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। গত কয়েকদিন ধরে সমাজমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে লাগাতার চলা ‘চরিত্র হনন’ ও মানহানিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

নেপথ্যে কে এই উত্তম সাহা? বৃহস্পতিবার লালবাজারে পাঠানো ইমেল অভিযোগে সৌরভ নির্দিষ্টভাবে একজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি হলেন কলকাতার ‘আর্জেন্টিনা ফুটবল ফ্যান ক্লাব’-এর সভাপতি উত্তম সাহা। সৌরভের দাবি, উত্তম সাহা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে জনসমক্ষে মিথ্যা ও আপত্তিকর বয়ান দিচ্ছেন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ মহারাজের।

কেন ক্ষুব্ধ সৌরভ? ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় পা রেখেছিলেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। যুবভারতীতে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীন চরম বিশৃঙ্খলা ও স্টেডিয়ামের একাংশে ভাঙচুর হয়। নেটিজেনদের একাংশ ও বিতর্কিত কিছু পোস্ট দাবি করে যে, এই ঘটনার পেছনে সৌরভের যোগসূত্র রয়েছে।

সৌরভ তাঁর অভিযোগপত্রে স্পষ্ট জানিয়েছেন:

“যুবভারতীর ঘটনার সঙ্গে আমার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো যোগ নেই। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিলে তিলে গড়া আমার পেশাগত ও ব্যক্তিগত সুনাম নষ্ট করতেই এই সাজানো প্রচার চালানো হচ্ছে।”

পুলিশি তৎপরতা: লালবাজার সূত্রে খবর, সৌরভের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সাইবার সেল। কোন কোন প্রোফাইল থেকে এই ধরনের ট্রোলিং বা কুৎসা ছড়ানো হয়েছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে অভিযুক্ত উত্তম সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারে পুলিশ।

তদন্তকারী এক আধিকারিকের কথায়, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। অপরাধ প্রমাণ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মেসি-সফরের উন্মাদনা ছাপিয়ে এখন গঙ্গার দু’পাড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সৌরভের এই আইনি পদক্ষেপ। ক্রীড়ামহল মনে করছে, অকারণ ট্রোলিং ও কুৎসার বিরুদ্ধে এই লড়াই আগামী দিনে সাইবার বুলিং রুখতে বড় নজির হয়ে থাকবে।