‘জাতির জনককে অপমান করেছে কেন্দ্র!’ কর্মসংস্থান বিল ঘিরে উত্তাল দেশ, মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

লোকসভায় কেন্দ্রের নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান বিল পাশ হওয়া নিয়ে যখন দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক মাস্টারস্ট্রোক দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকারের নিজস্ব কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘কর্মশ্রী’-র নাম পরিবর্তন করে রাখা হবে মহাত্মা গান্ধীর নামে।
কেন এই নামবদল? এদিন কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে ‘বিজনেস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভে’ বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “জাতির জনকের নাম জাতীয় কর্মসংস্থান প্রকল্প থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এটা দেখে আমি লজ্জিত। কেন্দ্র যদি তাঁকে সম্মান দিতে না পারে, তবে আমরা দেব।” মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ সরাসরি কেন্দ্রের ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান আইন’ (MGNREGA) বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রাজ্যই জোগাবে কাজ ও টাকা: কেন্দ্র টাকা আটকে রাখলেও দমে যেতে রাজি নয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন:
রাজ্য নিজস্ব তহবিল থেকেই বর্তমানে ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পে উপভোক্তাদের বছরে ৭৫ দিনের কাজ দিচ্ছে।
ভবিষ্যতে এই কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে ১০০ দিনে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
মমতার কথায়, “আমরা নিজেরা বহু কর্মদিবস তৈরি করেছি। আমরা কারও কাছে ভিক্ষা চাই না, কেন্দ্র টাকা বন্ধ করলেও মানুষকে কাজ দেওয়া হবে।”
দিল্লিতে বিক্ষোভের আগুন: এদিকে, লোকসভায় পাস হওয়া ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা ভিবি-জি রাম জি (VB-GRAMJI) বিলের প্রতিবাদে উত্তাল সংসদ ভবন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী সাংসদরা গান্ধী মূর্তির পাদদেশে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, নতুন বিলের মাধ্যমে গ্রামীণ ভারতের কাজের অধিকার এবং আইনি সুরক্ষা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
কী আছে কেন্দ্রের নতুন বিলে? নতুন বিল অনুযায়ী, গ্রামীণ পরিবারগুলির জন্য বছরে ১২৫ দিনের মজুরি ভিত্তিক কাজের আইনি নিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে। আইনটি কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে রাজ্যগুলিকে নিজস্ব প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, ‘মহাত্মা গান্ধী’র নাম সরিয়ে দেওয়া আসলে এক গভীর ষড়যন্ত্র এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বুনিয়াদ ধ্বংস করার চেষ্টা।