১৫ বছর শুধু পাথরই উঠবে! দেওচা-পাঁচামি নিয়ে সরকারের ‘ভাঁওতাবাজি’ ফাঁস করলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়!

এশিয়ার বৃহত্তম কয়লাখনি হওয়ার কথা ছিল বীরভূমের দেওচা-পাঁচামিতে। কিন্তু সেই মেগা প্রকল্প ঘিরেই এবার ঘনিয়ে উঠল চরম বিতর্ক। চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে প্রথম পর্যায়ের পাথর উত্তোলনের বরাত বাতিল করল রাজ্য সরকার। আর এই ইস্যুতেই সুর চড়িয়েছে বিজেপি। তাদের দাবি, কয়লাখনি আসলে একটা ‘মরীচিকা’, স্রেফ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে শাসক দল।

কেন বাতিল হলো বরাত? সূত্রের খবর, মেসার্স পাঁচামি ব্যাসল্ট মাইনিং প্রাইভেট লিমিটেডকে প্রথম পর্যায়ে ১২ একর জমিতে পাথর তোলার বরাত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির ধারা লঙ্ঘন করায় রাজ্য সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়ে সেই দরপত্র বাতিল করে দিয়েছে। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগম (WBPDCL)-এর পক্ষ থেকে ওই সংস্থাকে উত্তোলিত পাথর ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৩১৪ একর জায়গায় দ্বিতীয় পর্যায়ের পাথর উত্তোলনের জন্য নতুন করে বিশ্বব্যাপী দরপত্র (Global Tender) আহ্বান করেছে সরকার।

বিজেপির কড়া আক্রমণ: বৃহস্পতিবার সিউড়িতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলি হলো:

মিথ্যা প্রতিশ্রুতি: জগন্নাথবাবুর দাবি, “গত ১৫ বছরে একটা মুড়ি মিলও উদ্বোধন করতে পারেনি এই সরকার। অথচ কয়লাখনির মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষকে ঠকানো হচ্ছে।”

কয়লা নয়, স্রেফ পাথর: বিজেপি নেতার অভিযোগ, নতুন যে ৩১৪ একরের দরপত্র ডাকা হয়েছে, সেখানে ১৫ বছরের জন্য পাথর উত্তোলনের কথা বলা হয়েছে। অথচ কোথাও কয়লাখনির উল্লেখ নেই। অর্থাৎ আগামী ১৫ বছর সেখানে শুধুই পাথর কাটা হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক তোলাবাজি: অভিযোগ করা হয়েছে যে, অক্টোবরে টেন্ডার ডাকা হলেও এখনও কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা আগ্রহ দেখায়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি রাজ্যের “প্রাতিষ্ঠানিক তোলাবাজি”-কে দায়ী করেছেন। টেন্ডার জমার সময় ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলেও সাড়া মেলেনি।

পরিকল্পনাহীনতা: জগন্নাথবাবুর দাবি, প্রকল্পের কোনো সুনির্দিষ্ট নকশা বা কেন্দ্রের অনুমোদন নেই। আদিবাসীদের বঞ্চিত করে জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং চাকরির নামে কেবল শাসকদলের ঘনিষ্ঠদের সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের মুখে এই বরাত বাতিল এবং বিরোধীদের এই আক্রমণ রাজ্য সরকারের অস্বস্তি বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পকে রাজ্যের কর্মসংস্থানের বড় হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, সেখানে বিজেপির এই ‘ভাঁওতাবাজি’র অভিযোগ নতুন বিতর্ক উসকে দিল।