বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ দিলেন দারুণ খবর! বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মাটির গভীরে মিলতে পারে ‘গুপ্তধন’?

রাঢ় বাংলার লাল মাটির নিচে কি এবার সোনা ফলবে? বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের দুর্লভপুর এলাকায় সোনার উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। খোদ সংসদে কেন্দ্রীয় খনিজ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্যে এই আশার কথা উঠে এসেছে, যা দেখে আপ্লুত জেলাবাসী।
সংসদে কী তথ্য মিলল? Geological Survey of India (GSI)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে বাঁকুড়ার দুর্লভপুর-গঙ্গাজলঘাটি এলাকায় G4 পর্যায়ের খনিজ অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। মূলত মাটির নিচে সোনার আকরিক আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই সমীক্ষা। কেবল বাঁকুড়া নয়, পার্শ্ববর্তী জেলা পুরুলিয়াতেও একাধিক জায়গায় সোনা এবং অত্যন্ত দামী ‘রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট’ (REE)-এর খোঁজ চলছে।
সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-র প্রতিক্রিয়া: বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এই খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, বাঁকুড়ার মাটির নিচে সোনার সম্ভাবনার এই খবর জেলাবাসীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক উত্তোলন সম্ভব হয়, তবে জেলার আর্থসামাজিক মানচিত্র রাতারাতি বদলে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মত: কতটা পথ বাকি? অনেকেই খুশিতে আত্মহারা হলেও ভূতাত্ত্বিকরা কিন্তু সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। তাঁদের মতে:
G4 পর্যায়: এটি অনুসন্ধানের প্রাথমিক ধাপ। এখানে খনিজ থাকার শুধু ইঙ্গিত মেলে।
ভবিষ্যৎ ধাপ: বাণিজ্যিক খনন শুরু করতে গেলে আরও গভীর G3, G2 এবং G1 পর্যায়ের সমীক্ষা প্রয়োজন।
নিলাম প্রক্রিয়া: খনিজ ব্লকের সন্ধান নিশ্চিত হলে তা নিলামের স্তরে পৌঁছাতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগবে।
শিল্পের নতুন দিগন্ত: বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো জঙ্গলমহলের জেলাগুলোতে যদি সত্যি সোনার সন্ধান মেলে, তবে তা কেবল কর্মসংস্থানই বাড়াবে না, পরিকাঠামো উন্নয়নেও বিপ্লব ঘটাবে। জঙ্গলমহলের রুক্ষ মাটিতে সোনার ছোঁয়া লাগে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বাংলা।