এক ক্লিকেই মিটবে সব সমস্যা! ব্যবসায়ীদের জন্য ঐতিহাসিক ঘোষণা মমতার, খুশির হাওয়া বাণিজ্যিক মহলে

রাজ্যে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানই যে তাঁর প্রধান লক্ষ্য, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাম শাসনের অবসানের পর থেকে বাংলার ভোল বদলে যে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ তিনি শুরু করেছিলেন, বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের সভা থেকে তাকেই এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। সামনেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন, তার আগেই রাজ্যের ব্যবসায়ী মহলের জন্য একগুচ্ছ যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের জন্য ‘রক্ষাকবচ’: ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড
এদিনের সম্মেলনের সবথেকে বড় চমক ছিল ‘পশ্চিমবঙ্গ ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ব্যবসায়ীরা যাতে নিজেদের ছোট-বড় সমস্যার সমাধান নিজেরাই দ্রুত করতে পারেন এবং সরকারের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় বজায় রাখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই বোর্ড তৈরি করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিটি জেলার চেম্বার অফ কমার্সকে নিয়ে এই বোর্ড কার্যকর করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বিনিয়োগের স্বর্গরাজ্য বাংলা: কমছে বেকারত্ব
নীতি আয়োগের রিপোর্টের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিরোধীদের মোক্ষম জবাব দিয়েছেন। তিনি জানান:
বাংলায় গত কয়েক বছরে বেকারত্বের সংখ্যা কমেছে ৪০ শতাংশ।
রাজ্যের রফতানি বাণিজ্য বর্তমানে ১ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
কলকাতা ও শিলিগুড়িতে তৈরি হতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্টেশন সেন্টার’ এবং ‘বি টু বি’ (B2B) হাব।
লাল ফিতের ফাঁস আলগা: আসছে সিঙ্গল উইন্ডো
ব্যবসায়ীদের প্রশাসনিক জটিলতা ও দৌড়ঝাঁপ কমাতে মুখ্যমন্ত্রী ‘সিঙ্গল উইন্ডো’ সিস্টেম চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে লাইসেন্স থেকে শুরু করে সরকারি অনুমোদন—সবই মিলবে এক ছাদের তলায়। বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের হাত ধরে যে বিদেশি লগ্নি রাজ্যে আসছে, তাকে আরও ত্বরান্বিত করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকরী হবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
উপসংহার
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বার্তাই দিলেন না, বরং রাজ্যের কয়েক লক্ষ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর মনও জয় করে নিলেন।