পৌষ মেলার আগেই উৎসবে মাতল শান্তিনিকেতন! ৮ রাজ্যের ৬০০ শিল্পীকে নিয়ে শুরু হলো ‘লোক মহোৎসব’।

ডিসেম্বরের শেষে শান্তিনিকেতন মানেই উৎসবের আমেজ। ২৩ ডিসেম্বর থেকে ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা শুরু হওয়ার ঠিক আগেই, ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের উদ্যোগে শান্তিনিকেতনের সৃজনী শিল্পগ্রামে শুরু হলো পাঁচ দিনের মেগা ইভেন্ট ‘পূর্বাঞ্চলীয় লোক মহোৎসব’। পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের মোট ৮টি রাজ্যের প্রায় ৬০০ শিল্পীর সমাগমে এখন মুখরিত কবিগুরুর কর্মভূমি।

কী কী থাকছে এই উৎসবে? পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্র (EZCC)-র উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে বাংলা ছাড়াও অসম, সিকিম, মণিপুর, ত্রিপুরা, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের লোকসংস্কৃতি প্রদর্শিত হবে। ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০:৩০ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পর্যটকেরা এই উৎসব উপভোগ করতে পারবেন। সবচেয়ে বড় কথা, এই উৎসবে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট লাগবে না।

উৎসবে নজরকাড়া পারফরম্যান্স:

ভিন রাজ্যের শিল্প: অসমের বিহু, ত্রিপুরার হোজগিরি, ওড়িশার সম্বলপুরী নৃত্য এবং মণিপুরী নৃত্যের ছন্দে মেতে উঠবে শিল্পগ্রাম।

বাংলার ঐতিহ্য: পটের গান, ছৌ নৃত্য, বাউল, পুতুল নাচ, বহুরূপী এবং গম্ভীরার মতো বাংলার প্রাচীন লোকশিল্পের ডালি সাজিয়ে বসেছেন শিল্পীরা।

হস্তশিল্পের বাজার: বিভিন্ন রাজ্যের শিল্প সামগ্রীর স্টলও রয়েছে এখানে, যেখান থেকে পর্যটকেরা স্মারক সংগ্রহ করতে পারবেন।

শিল্পীদের মনের কথা: দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে পটের গান গেয়ে চলা শিল্পী লাল্টু পটুয়া বলেন, “এই শিল্প এখন হারিয়ে যাচ্ছে, উপার্জন কমেছে। কিন্তু এই উৎসবে এলে অনেক মানুষের ভালোবাসা পাই।” অন্যদিকে, নারদের বেশে সাজা বহুরূপী শিল্পী সুজিত বাজিকর জানান, প্রতি বছরই তাঁরা দল নিয়ে আসেন মানুষকে আনন্দ দিতে।

পৌষমেলার মাহেন্দ্রক্ষণ: EZCC-র অধিকর্তা আশিস গিরি জানিয়েছেন, এটি তাঁদের অন্যতম বড় উৎসব। ২১ ডিসেম্বর এই লোক মহোৎসব শেষ হওয়ার পরেই ২৩ ডিসেম্বর থেকে পূর্বপল্লির মাঠে শুরু হবে ঐতিহ্যের পৌষমেলা, যা চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সব মিলিয়ে বছরের শেষ লগ্নে শান্তিনিকেতন এখন পর্যটকদের জন্য এক সাংস্কৃতিক স্বর্গরাজ্য।