যুবভারতীতে শুভেন্দুর এন্ট্রি আটকালো পুলিশ! মমতা সরকারকে ‘ঠ্যালা আর গুঁতো’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা।

যুবভারতীতে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও ‘কেলেঙ্কারি’র অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিকেলে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং প্রতিবাদ জানাতে পৌঁছেছিলেন তিনি। কিন্তু স্টেডিয়ামের গেটেই পুলিশ তাঁকে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। আর এতেই মেজাজ হারিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু।
গেটেই বাধা, তুঙ্গে বিতর্ক: এদিন যুবভারতীর মূল ফটকের সামনে শুভেন্দু অধিকারীকে আটকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ভিতরে ঢুকতে না পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের মদতে এই বিশাল মাপের জালিয়াতি ও বিশৃঙ্খলা হয়েছে, যার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, সাধারণ মানুষের টাকার অপচয় ও ফুটবল প্রেমীদের আবেগের সঙ্গে খেলা হয়েছে।
‘ঠ্যালা আর গুঁতো’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি: পুলিশি বাধার মুখে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “কী করে ঠ্যালা আর গুঁতো দিতে হয়, বিজেপি তা খুব ভালো করেই জানে।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। শুভেন্দুর ইঙ্গিত, আগামী দিনে এই অব্যবস্থার প্রতিবাদে এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিজেপি আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবে।
সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন: শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এই পুরো ইভেন্টে রাজ্য প্রশাসনের চরম গাফিলতি ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত বড় একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে কীভাবে সাধারণ দর্শকদের হেনস্থা করা হলো? শুধু আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করলেই হবে না, এর পেছনের প্রশাসনিক মাথাদেরও জবাবদিহি করতে হবে বলে দাবি জানান তিনি।
যুবভারতী-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই তরজা এখন ফুটবল মাঠ ছাড়িয়ে পুরোদস্তুর রাজনৈতিক যুদ্ধের আকার নিয়েছে।