বাবার থেকে যোজন দূরে, প্রসেনজিতের অদেখা মেয়ে এখন বিদেশের নামী আইনজীবী! চেনেন কি প্রেরণাকে?

টলিউডের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে তৃষাণজিৎ ওরফে মিশুককে এখন সবাই চেনেন। বাবার সঙ্গে আইপিএল-এর মাঠ থেকে বলিউডের হাই-প্রোফাইল পার্টি— সর্বত্রই দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু প্রচারের আলো থেকে বহুদূরে রয়ে গিয়েছেন প্রসেনজিতের বড় সন্তান তথা তাঁর একমাত্র মেয়ে প্রেরণা চট্টোপাধ্যায়। বাবার গ্ল্যামার দুনিয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগ নেই, বরং বিদেশের মাটিতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন তিনি।

অতীতের ভাঙা সম্পর্কের গল্প: ব্যক্তিগত জীবনে প্রসেনজিৎ তিনবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ১৯৯২ সালে দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে বিয়ে ভাঙার পর ১৯৯৭ সালে তিনি বিয়ে করেন অপর্ণা গুহঠাকুরতাকে। অপর্ণা বিনোদন জগতের মানুষ ছিলেন না। তাঁদেরই কন্যাসন্তান প্রেরণা। তবে এই সম্পর্কও বেশিদিন টেকেনি। শোনা যায়, ইন্ডাস্ট্রির নায়িকাদের সঙ্গে প্রসেনজিতের ঘনিষ্ঠতা ও পরকীয়ার অভিযোগ তুলে ২০০২ সালে বিচ্ছেদ ঘোষণা করেন অপর্ণা। এরপরই মেয়েকে নিয়ে তিনি স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে যান।

পেশায় সফল আইনজীবী: বর্তমানে ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা প্রেরণা। মায়ের কাছে মানুষ হয়ে তিনি এখন পেশায় একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী। প্রসেনজিৎ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেলে মিশুককে নিয়ে অসংখ্য পোস্ট দিলেও সেখানে কোথাও দেখা মেলে না প্রেরণার। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাবার সঙ্গে মেয়ের কোনো যোগাযোগ নেই। এক সাক্ষাৎকারে বুম্বাদা আফসোসের সুরে জানিয়েছিলেন, “ওর সঙ্গে দেখা করার খুব ইচ্ছা আছে। আমি ওদের জীবনে ঢুকতে চাই না, তবে সঠিক সময়ের অপেক্ষায় রয়েছি। আশা করি ঈশ্বর সেই সুযোগ দেবেন যখন আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরব।”

পিসির সাথে অটুট টান: বাবার সঙ্গে দূরত্ব থাকলেও পিসি পল্লবী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কিন্তু প্রেরণার সম্পর্ক বেশ মধুর। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রেরণা কলকাতায় এলে ভাইঝির সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন পল্লবী। যেখানে তিনি প্রেরণাকে ‘ক্রিসমাস সারপ্রাইজ’ এবং ‘লিটল অ্যাঞ্জেল’ বলে সম্বোধন করেন। এমনকি সেই পোস্টে তিনি প্রসেনজিতের দ্বিতীয় স্ত্রী অপর্ণাকেও ট্যাগ করেন, যা থেকে স্পষ্ট যে পল্লবীর সাথে তাঁদের যোগাযোগ রয়েছে।

বর্তমানে প্রেরণা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ব্যস্ত। নিজের প্রেমিকের সঙ্গেও মাঝেমাঝে ছবি দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে টলি-পাহাড়ের চূড়ায় থাকা বাবার সঙ্গে তাঁর এই দীর্ঘ অভিমান কবে কমবে, সেই উত্তর দেবে কেবল সময়।