‘বাবরি মসজিদ তৈরি করবই!’ তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গড়ছেন হুমায়ুন কবীর, টার্গেট ১৩৫ আসন।

পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে আবারও বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর এবার নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠনের চূড়ান্ত ঘোষণা করলেন ভরতপুরের দাপুটে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আগামী ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে ৪ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে তাঁর নতুন দল। হুমায়ুনের স্পষ্ট লক্ষ্য— আসন্ন নির্বাচনে ১৩৫টি আসনে লড়াই করে তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং বিজেপি-কে আটকানো।

লক্ষ্য ৭০ থেকে ৯০ আসন: এদিন আত্মবিশ্বাসের সুরে হুমায়ুন কবীর জানান, তাঁর দল কেবল নামেই থাকছে না, বরং বিধানসভায় নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। তিনি বলেন, “আমি কারও ভোটে ভাগ বসাতে আসিনি। মুসলিমদের অধিকার বুঝে নিতে আমরা ১৩৫টি আসনে লড়ব এবং ৭০ থেকে ৯০টি আসনে জিতে আসব।” মুর্শিদাবাদ, মালদা, দুই দিনাজপুর, নদীয়া ও বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে তাঁর দলের প্রতি মানুষের প্রবল আগ্রহ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও বড় প্রতিশ্রুতি: শাসক দলকে টেক্কা দিতে বড়সড় জনমোহিনী প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন হুমায়ুন। তাঁর কথায়, “পার্টি তৈরি হলে কর্মসূচী জানতে পারবেন। আমরা ১০০০-১২০০ টাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেব। এছাড়া বাড়ি তৈরির জন্য গ্রামে ১ লাখ ২০ হাজার এবং শহরতলিতে ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।” সেই সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির খতিয়ান সাধারণ মানুষের সামনে আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

জোট প্রসঙ্গে ‘ছুৎমার্গ’ নেই: কংগ্রেস, মিম (MIM) বা আইএসএফ (ISF)— কার সাথে জোট করবেন হুমায়ুন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “তৃণমূলকে হারাতে আমার কোনো ছুৎমার্গ নেই। মিম, কংগ্রেস বা নওশাদ সিদ্দিকী— যে কেউ আসতে চাইলে দরজা খোলা।” তবে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।

বিজেপি যোগ ও দলবদলের ইতিহাস: বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাঁতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে হুমায়ুন জানান, অতীতে যখন তিনি বিজেপিতে গিয়েছিলেন, তা ছিল রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা। শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে তাঁকে আক্রমণ করে হুমায়ুন বলেন, “তৎকালীন পুলিশ ও নেতারা আমার টুঁটি চেপে ধরেছিল বলে বিজেপিতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। কিন্তু সেখানে দিলীপ ঘোষ বা মুকুল রায়দের পছন্দ না হওয়ায় ফিরে আসি। এটা এখন ইস্যু নয়।”

২২ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি। বিদ্রোহী এই নেতার হাত ধরে বাংলার সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক ভোটারদের সমীকরণ কতটা পাল্টাবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।