‘মমতার ঔদ্ধত্য নেই, তাই ক্ষমা চেয়েছেন!’ মেসি-কাণ্ডে এবার বিজেপি-কে তুলোধনা অভিষেকের।

যুবভারতীতে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা নিয়ে ফের একবার সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতে সরাসরি বিরোধীদের বিঁধে অভিষেক স্পষ্ট জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কোনো ঔদ্ধত্য নেই, তাই ভুল স্বীকার করে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। যা ভারতের অন্য কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

অন্য রাজ্যের সাথে তুলনা ও আক্রমণ: এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কুম্ভমেলা এবং রেল দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “কুম্ভতে যখন এত বড় ঘটনা ঘটল, সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী কি ক্ষমা চেয়েছিলেন? রেলে একের পর এক দুর্ঘটনায় শয়ে শয়ে লোক মারা যাচ্ছে, কই রেলমন্ত্রীকে তো ক্ষমা চাইতে দেখিনি!” তাঁর দাবি, ৭০ বছরের ইতিহাসে কোনো রাজ্যে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পর সরকারকে এমন সৌজন্যতা দেখাতে দেখা যায়নি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের কাছে মাথা নত করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না বলেই প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

বাংলার মানসম্মান ও গাফিলতি: মেসি-কাণ্ডে বাংলার ভাবমূর্তি যে ধাক্কা খেয়েছে, তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার মাথা হেঁট হয়েছে। কয়েকজনের আদিখ্যেতা দেখাতে গিয়ে সমর্থকদের নিরাশ করা হয়েছে। এটা আমাদের কাছে কাঙ্ক্ষিত ছিল না।” রাজ্য প্রশাসনের গাফিলতি ছিল তা মেনে নিয়ে তিনি জানান, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তবে এটি নিয়ে যাঁরা রাজনীতি করছেন, তাঁরা আদতে বাংলাকে ছোট করছেন।

ভক্তদের আবেগের পাশে অভিষেক: যাঁরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মেসিকে দেখার জন্য কয়েক হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সাংসদ। তিনি আবেগঘন সুরে বলেন, “নিশ্চিতভাবে যাঁরা পুজোর জামা না কিনে টাকা জমিয়ে মেসিকে দেখবেন বলে এসেছিলেন, তাঁদের রাগ হওয়া স্বাভাবিক।”

কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস: অভিষেক স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই ঘটনার পেছনে যাঁরই যোগসাজশ থাকুক না কেন, কেউ রেহাই পাবে না। উদ্যোক্তাদের জবাবদিহি করতে হবে। তদন্ত চলছে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে রাজ্য সরকার প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেবে।